বাংলাদেশের ক্যাম্পে থাকা ৯ লাখ রোহিঙ্গার কোনও ভবিষ্যত্ নেই বলে মনে করেন রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা আইনজীবী রাজিয়া সুলতানা। বুধবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক সাক্ষাত্কারে এ কথা বলেছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সাহসী নারীর পুরস্কার পেয়েছেন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা চিড়িয়াখানার মতো বাস করছে। রোহিঙ্গাদের কল্যাণের জন্য কার্যকর প্রত্যাবাসন কৌশল প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রাজিয়া সুলতানা বলেন, ২০১৭ সালে রাখাইনে সেনাবাহিনীর বর্বর দমন অভিযানের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা আশাহত হয়ে পড়েছে। যত বেশি সময় তারা ক্যাম্পে থাকবে তাদের অবস্থা তত খারাপ হবে।
তিনি বলেন, তারা খাবার পাচ্ছে এটা ঠিক। কিন্তু খাবারই যথেষ্ট নয়। এটা চিড়িয়াখানার মতো, যেখানে মানুষকে শুধু খাবার এবং বেড়ে উঠতে দেওয়া হয়। কোনও শিক্ষা নেই। কোনও ভবিষ্যত্ নেই।
রোহিঙ্গা নারী রাজিয়া সুলতানার জন্ম মিয়ানমারে। কিন্তু তার বেড়ে ওঠা বাংলাদেশে। এই বছর যুক্তরাষ্ট্রের আইডব্লিউসিএ পুরস্কার জয়ী ১০ নারীর একজন তিনি।
রাজিয়া সুলতানা উইমেন্স ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নামে সংগঠন গড়ে তুলেছেন। ২০১৭ সালে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা নারীদের পরামর্শ প্রদান করছে এই সংগঠন। ২০১৬ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পারিবারিক নির্যাতন রোধ ও বাল্যবিবাহ বন্ধে সংগঠনটি স্বেচ্ছাসেবীদের প্রশিক্ষণও দেয়। তার মতে, রোহিঙ্গা নারীদের সুযোগ দেওয়া হলে, নিরাপত্তা দেওয়া হলে তারাও অবাক করা কাজ করতে পারবে।