জিএসপি ইস্যু নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে ভাবুন: যুক্তরাষ্ট্রকে বাণিজ্যমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা বা জিএসপি ইস্যুটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বানিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, আমি আশা করি, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের অর্জন ও টিকফার শর্ত মনে করে হলেও জিএসপি বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিতে ভাববে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমরা টিকফা করেছি। টিকফার মূল উদ্দেশ্য ব্যবসা-বাণিজ্যে সহযোগিতা করা। কিন্তু আমরা যদি সেটা না করি- তাহলে টিকফা হবে অর্থহীন।
 
বৃহস্পতিবার রাজধনাীর সোনারগাঁও হোটেলে ইউএস ট্রেড শো’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অ্যামেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট উপস্থিত ছিলেন। 
 
রানা প্লাজা দুর্ঘটনার জেরে ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশকে প্রদত্ত জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে। অবশ্য দেশটিতে জিএসপি সুবিধার আওতার বাইরে ছিল বড় রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক। মোট রপ্তানির ৯৯ শতাংশই জিএসপি সুবিধার বাইরে ছিল। 
জিএসপি স্থগিত হওয়ার পরও দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রতি বেড়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় বাজার। 
 
বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। এবছরও রপ্তানিতে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি হয়েছে। অর্থবছর শেষে এটি ৭ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে। যদিও আমরা অগ্রাধিকারমূলক বাজার প্রবেশাধিকার পাচ্ছি না। 
 
এ সময় শ্রম অধিকার রক্ষায় সরকারের নেয়া নানামুখী উদ্যোগ তুলে ধরেন তিনি। 
 
তিনি বলেন, আমরা ইপিজেডও (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা)  শ্রমিকদের জন্য ওয়ার্কার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন করেছি, যা শ্রম আইনের মতই।
 
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে। এটা দিনদিন আরও বাড়ছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার ফলে আমেরিকান অনেক প্রতিষ্ঠানই এখানে আগ্রহ দেখাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতিও অনেক উদার। যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যকে সবসময় উৎসাহিত করে। 
তিন দিনব্যাপী এ ট্রেড শো তে ৫৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ৪০টি যুক্তরাস্ট্রের। শনিবার এ প্রদর্শনী শেষ হবে। 
 
২০ টাকা দর্শনীর বিনিময়ে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে স্কুলের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবে।
 
উদ্বোধনীতে অ্যামচেম সভাপতি নূরুল ইসলাম, অ্যামচেমের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের চেয়ারম্যান জ্যাকসন কক্স প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।