কারখানা সংস্কারে ধীরগতির ইস্যুটি ইউরোপের ক্রেতাদের সমন্বয়ে গঠিত জোট অ্যাকর্ডের পর এবার যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ক্রেতাদের জোট অ্যালায়েন্সও সামনে এনেছে।
অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে, তাদের পরিদর্শনের অধীনে থাকা বেশকিছু কারখানা সংস্কার একেবারেই ধীরগতিতে এগুচ্ছে।
সোমবার বিজিএমইএ ভবনে এক বৈঠকে এ ইস্যুটি আলোচনায় আসে।
বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, এসব কারখানার একটি তালিকা তৈরি করছে অ্যালায়েন্স। চলতি সপ্তাহে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএকে এ তালিকা দেয়া হবে। ইতিমধ্যে অ্যকর্ডের পক্ষ থেকেও সংস্কারে পিছিয়ে থাকা কারখানার একটি তালিকা বিজিএমইএকে দেয়া হয়েছে। ওই তালিকায় থাকা কারখানার মালিকদের সঙ্গে ইতিমধ্যে বৈঠক শুরু করেছে বিজিএমইএ। সোমবারের বৈঠকে অ্যালায়েন্সের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা মার্ক চুব ছাড়াও বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিজিএমইএ’র কাছে দেয়া অ্যাকর্ডের তালিকা অনুযায়ী, অ্যাকর্ড প্রায় ১তশ’ শতাধিক কারখানা পরিদর্শন শেষে সংস্কারের জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। কিন্তু অ্যকর্ডের তালিকা অনুযায়ী, দুই বছর পার হলেও ৫২২টি কারখানা এখনো ৪০ শতাংশ সংস্কার কাজও সম্পন্ন করতে পারেনি। এর মধ্যে দুই শ’ কারখানা রয়েছে যাদের সংস্কারের অগ্রগতি হতাশাজনক। এসব কারখানা ১০ শতাংশ সংস্কারও করতে পারেনি। ৯৮টি কারখানার সংস্কার অগ্রগতি ২০ শতাংশের নিচে এবং বাকী কারখানাগুলো ২০ শতাংশের উপরে কিন্তু ৪০ শতাংশের নিচে।
অন্যদিকে অ্যালায়েন্সে পরিদর্শন করেছে প্রায় ৬শ’ কারখানা। এর বাইরে আইএলও (আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা) ও সরকারের উদ্যোগে আরো প্রায় ১৭শ’ কারখানাসহ মোট ৩ হাজার ৬শ’ কারখানা সংস্কার কাজ চলছে। জানা গেছে, এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে ২ থেকে ৩ শতাংশ কারখানা।
বিজিএমইএ সহ-সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, সংস্কারে পিছিয়ে থাকা কারখানার তালিকা আমরা অ্যালায়েন্সের কাছেও চেয়েছি। তালিকা পাওয়া গেলে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে। চলতি সপ্তাহে এ তালিকা পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।
সূত্র জানিয়েছে, অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স উভয়রে পরিদর্শন তালিকায় থাকা কারখানার সংস্কার মানদণ্ড, ত্রুটি চিহ্নিতকরণ কিংবা সংস্কার পরিকল্পনার (কারেক্টিভ অ্যাকশন প্ল্যান-ক্যাপ) ইস্যুটিও আলোচনায় এসেছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিমাসের শেষ বৃহস্পতিবার ইস্যুটি নিয়ে উভয় জোট বৈঠক করবে। বৈঠকে বিজিএমইএ’র প্রতিনিধিও থাকবেন। এক পক্ষের পরিদর্শনের পর অন্য পক্ষের পরিদর্শনে বড় ধরণের ত্রুটি পাওয়া গেলে বৈঠকে তা পর্যালোচনা করে উভয়ের মতামতের ভিত্তিতে তা গ্রহণ করা হবে। অপ্রয়োজনীয় হলে তা গ্রহণ করা হবে না।
২০১৩ সালে ভয়াবহ রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ক্রেতাদের উদ্যোগে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের কার্যক্রম শুরু হয়। এ দু’টি জোট মূলত তাদের ক্রেতাদের অর্ডার সরবরাহ করে এমন কারখানার অগ্নি, ভবনের কাঠামো ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তামান পরিদর্শন শেষে ত্রুটি চিহ্নিত করে তা সংস্কারের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয়। আগামী ২০১৮ সাল নাগাদ তাদের কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।