ইত্তেফাক ডেস্ক
দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। এ সময় ছয়টি দোকান, চারটি ঘর ও পানের বরজ আগুনে ভস্মীভূত হয়। এ বিষয়ে খবর জানিয়েছেন ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাগণ।
পিরোজপুর: পিরোজপুর শহরের ক্লাব রোডের একটি মার্কেটে সকালে অগ্নিকাণ্ডে ৬টি দোকান ভস্মীভূত হয়েছে। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আব্দুল হক জানান, এ অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ১৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে একটি রেক্সিনের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর তা পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের মধ্যে রয়েছে রেক্সিনের দোকান, ফলের দোকান, ফাস্ট ফুডের দোকান, ফার্মেসি, বইয়ের লাইব্রেরি ও সেলুন।
ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা নকীব অভিযোগ করেন, দেরিতে বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করায় ফায়ার সার্ভিসের কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে।
শেরপুর (বগুড়া): শেরপুরের মহিপুর বালাপাড়া এলাকায় পূর্ব শক্রতার জের ধরে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে দুর্বৃত্তরা পানের বরজে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে পানের বরজের মালিক শরিফ উদ্দিন জানিয়েছেন।
জানা যায়, উপজেলার গাড়িদহ মডেল ইউনিয়নের মহিপুর বালাপাড়া গ্রামের মৃত রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে শরিফ উদ্দিন প্রায় ২ বছর আগে ১৬ শতাংশ জমির উপরে পানের বরজ তৈরি করে। কিন্তু কে বা কাহারা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শরিফ উদ্দিনের ওই পানের বরজে আগুন লাগিয়ে দেয়।
এ ব্যাপারে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চিতলমারী (বাগেরহাট):চিতলমারীতে অগ্নিকাণ্ডে ৪টি ঘর ভস্মীভূত হয়েছে। স্থানীয় লোকজন জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বারাশিয়া গ্রামের মোস্তফা শেখের বাড়িতে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুন লাগে। এ সময় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। খবর পেয়ে টুঙ্গিপাড়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ছুটে আসলেও এ সময়ের মধ্যে আগুনে মোস্তফা শেখের একটি বসতঘর ও একটি রান্না ঘর ও পাশের ফয়েজুল শেখের বসতঘরসহ ৪টি ঘর আগুনে ভস্মীভূত হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এলাকার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের লোকজন ছুটে যান।
চিতলমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ নিজাম উদ্দিন জানান, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৬ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
চিতলমারী থানার ওসি অনুকূল সরকার জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশের লোকজন সেখানে যান। খবর পেয়ে টুঙ্গিপাড়া থেকে একটি ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ছুটে আসে কিন্তু এর আগেই ৪টি ঘর আগুনে ভস্মীভূত হয়।