মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জরুরি অবস্থা ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির সিনেটররা। সিনেটে ৫৭-৪১ ভোটে তার ঘোষণাটি প্রত্যাখ্যান করা হয়। মেক্সিকোর সঙ্গে প্রস্তাবিত দেয়ালের জন্য কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি এই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণা এই অসাংবিধানিক— এই যুক্তিতে সব ডেমোক্রেটিক সিনেট সদস্যের সঙ্গে ১২ জন রিপাবলিকান সিনেটর প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। কংগ্রেসের উভয় কক্ষে জরুরি অবস্থা ঘোষণা প্রত্যাখ্যাত হলেও প্রেসিডেন্টের ভেটোর কারণে আপাতত তা বাতিল হচ্ছে না।
জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিরুদ্ধে ভোট না দিতে ট্রাম্প তার দলের সিনেটরদের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই ভোট হবে তার বিরুদ্ধে ভোট। যেসব সিনেটর তার বিরোধিতা করবেন, ২০২০ সালের নির্বাচনে তিনি তাদের সমর্থন করবেন না, এমন হুমকিও দিয়েছিলেন। তিনি যুক্তি দেখিয়েছিলেন, জরুরি অবস্থা ঘোষণার সঙ্গে যুক্ত দেশের নিরাপত্তা, এর সঙ্গে সংবিধান লঙ্ঘনের কোনো ব্যাপার নেই। তিনি এমন কথাও বলেছিলেন, এবারের মতো জরুরি অবস্থা ঘোষণা মেনে নেওয়া হোক। এরপর প্রেসিডেন্টের জরুরি অবস্থা ঘোষণার অধিকার সীমিত করে কোনো সংশোধনী উত্থাপিত হলে তিনি তা সমর্থন করবেন। স্পষ্টতই রিপাবলিকান সিনেটররা তার সে কথায় আস্থা রাখতে পারেননি।
নিজ দলের সদস্যদের বাগে আনার এই ব্যর্থতাকে অনেকে ট্রাম্পের জন্য একধরনের ‘পাল্টা ব্যবস্থা’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। গত দুই বছর কংগ্রেসের উভয় কক্ষের রিপাবলিকান সদস্যরা বিনা প্রতিবাদে ট্রাম্পের সব সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। এবারই তার ব্যতিক্রম ঘটল। কেন ট্রাম্পের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন, তা ব্যাখ্যা করে রিপাবলিকান সিনেটর রব পোর্টম্যান বলেছেন, প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই সংবিধান মেনে চলতে হবে, তাকে কংগ্রেসের ক্ষমতা অস্বীকার করতে হবে। জরুরি অবস্থা ঘোষণার মতো আইনি অস্ত্রকে আরও সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
সিনেটে বৃহস্পতিবার পরপর দ্বিতীয় দিনের মতো ট্রাম্পের অনুসৃত নীতি প্রত্যাখ্যাত হলো। বুধবার ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বে পরিচালিত যুদ্ধে মার্কিন সমর্থন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সিনেটে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। সেই প্রস্তাবের পক্ষে সাতজন রিপাবলিকান সব ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ভোট দেন। ইয়েমেনের যুদ্ধে বিরোধিতা করে গৃহীত প্রস্তাবটি অবশ্য এখনো প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপিত হয়নি। ডেমোক্র্যাটিক সমর্থনে তা যে গৃহীত হবে, তাতে অবশ্য কোনো সন্দেহ নেই। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই প্রস্তাবে তিনি ভেটো দেবেন। জরুরি অবস্থা প্রত্যাখ্যান করে প্রস্তাবটি সিনেটে গৃহীত হওয়ামাত্রই এক টুইটে তিনি বড় বড় অক্ষরে লিখে জানান, ‘ভেটো’।