ইত্তেফাক ডেস্ক
নিরাপত্তা এবং অসামরিক পরমাণু শক্তি উত্পাদনে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ভারতে ছ’টি পরমাণু বিদ্যুত্ কেন্দ্র তৈরি করবে আমেরিকা। টানা দু’দিন বৈঠকের পর বুধবার ওয়াশিংটনে বিষয়টি নিয়ে একমত হয় দু’পক্ষই। তার পর দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে সামনে আনা হয় বিষয়টি।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতে এনার্জি সেক্টরে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করে আসছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে এখন তেল কেনায় সারা পৃথিবীতে তৃতীয় বৃহত্তম দেশ হলো ভারত। তাই ভারতকে পরমাণু বিদ্যুত্ চুল্লিসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ বিক্রি করতে উত্সাহ ছিল আমেরিকারও। পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে তাই পরমাণু বিদ্যুত্ কেন্দ্র তৈরিতে চুক্তিবদ্ধ হলো দুই দেশ। ওয়াশিংটনে এই বৈঠকে হাজির ছিলেন ভারতের বিদেশ সচিব বিজয় গোখেল এবং মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক দফতরের আন্ডার সেক্রেটারি আন্দ্রিয়া থম্পসন। যদিও যৌথ বিবৃতিতে ছ’টি পরমাণু বিদ্যুত্ কেন্দ্র তৈরি করার কথা ছাড়া অন্য কিছু বলা হয়নি।
২০০৮ সালে ভারত-মার্কিন অসামরিক পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই ভারতের পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে ঢুকতে চাইছিল আমেরিকা। ২০১৬ সালে পরমাণু বিদ্যুত্ কেন্দ্র তৈরির কথা প্রথম জানানো হলেও তা আটকে ছিল আইনি জটিলতায়। ভারতের আইন অনুয়ায়ী, পরমাণু বিদ্যুত্ কেন্দ্রে কোনো দুর্ঘটনা হলে তার দায় নিতে হবে পরমাণু বিদ্যুত্ কেন্দ্র যে কোম্পানি বানাচ্ছে, তাদেরই। অন্যদিকে আমেরিকার দাবি ছিল, দুর্ঘটনার দায় নিতে হবে যারা এই বিদ্যুত্ কেন্দ্র তদারকি করবে তাদের। যদিও এই জটিলতার কী রফাসূত্র বেরিয়েছে, তা খোলাসা করা হয়নি যৌথ বিবৃতিতে।
ভারতে পরমাণু চুল্লি বানাতে দীর্ঘ দিন ধরেই উত্সাহ দেখাচ্ছিল মার্কিন কোম্পানি ওয়েস্টিংহাউস। যদিও আইনি জটিলতার কারণেই সেই উদ্যোগে তেমন গতি ছিল না। ২০১৭ সালে আমেরিকার পরমাণু চুল্লিগুলো চালাতে গিয়ে বিপুল লোকসান করে দেউলিয়া হয়ে যায় এই কোম্পানি। গত বছরেই জাপানের তোশিবা-র কাছ থেকে এই কোম্পানিটি কিনে নেয় কানাডার ব্রুকফিল্ডস অ্যাসেট কোম্পানি। এর পরই ওয়েস্টিং হাউস নামের এই কোম্পানিকে বাঁচাতে উদ্যোগী হয় মার্কিন সরকার। মার্কিন শক্তিমন্ত্রী রিক পেরি এই কোম্পানিকেই ভারতে পরমাণু চুল্লি বানাতে বরাত দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন। তখন অন্ধ্রপ্রদেশে ছ’টি পরমাণু চুল্লি বানানোর কথা বলা হয়েছিল।
২০২৪ সালের মধ্যে পরমাণু বিদ্যুত্ উত্পাদন তিনগুণ করার পরিকল্পনা ভারতের। আমেরিকা ছাড়া ভারতে পরমাণু চুল্লি বানাতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে রাশিয়াও। গত অক্টোবরেই ভারতে আরও ছ’টি পরমাণু চুল্লি বানানোর কথা জানিয়েছিল নয়াদিল্লি এবং মস্কো। ভারত পরমাণু বিদ্যুতের পথে হাঁটলেও অধিকাংশ উন্নত দেশ পরমাণু বিদ্যুতের পরিমাণ কমানোর পথে হাঁটছে।