ইত্তেফাক রিপোর্ট
নদীর জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর উদ্ধারকৃত জায়গা খনন করে নদীকে ফিরিয়ে দিতে হবে। নইলে সেসব জায়গা আবারও দখলের সম্ভাবনা থাকে। আর তাতে নদীর প্রশস্ততা ও গভীরতা বৃদ্ধি পাবে না। তাতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মূল উদ্দেশ্যই বাস্তবায়িত হবে না। গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘নদী বাঁচাতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদই যথেষ্ট নয়; উদ্ধারকৃত নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দাও’ শীর্ষক মানববন্ধনে বক্তারা এ দাবি জানান। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-সহ অন্যান্য সমমনা সংগঠনগুলোর যৌথ উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সুবন্ধন সমাজ কল্যাণ সংগঠনের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চের সভাপতি আমির হাসান মাসুদ, নোঙর-এর সভাপতি সুমন শামস, বানিপা’র সভাপতি ইঞ্জি. আনোয়ার হোসেন, ছায়াতল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান বিএম সোহেল রানা, সচেতন নাগরিকের সভাপতি রুস্তম খান, পবা’র সদস্য মো. সেলিম, পুষ্পসাহা পুকুর রক্ষা কমিটির সভাপতি নাসির খান মিন্টু, সম্ভব বাংলাদেশের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বাবু, পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চের সদস্য মো. ফারুক হুসাইন, নোঙর-এর সদস্য আমিনুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, ঢাকা মহানগরীর জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যার গুরুত্ব অপরিসীম। এ নদীগুলোর অবৈধ দখল ও স্থাপনার বিরুদ্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা বারংবার উপেক্ষিত হয়েছে। ভূমি দখলকারীরা প্রথমে আবর্জনা ফেলে কাঁচা, পরে সেমিপাকা ও পাকা স্থাপনার মাধ্যমে প্রথমে নদী তীর দখল করে। পরে ধীরে ধীরে দখলের সীমানা বাড়াতে থাকে।
বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশের নদ-নদীর সংখ্যা অগণিত হলেও কোনোটাই বিচ্ছিন্ন নয়। একে অন্যের সাথে প্রাকৃতিক নিয়মে সুশৃঙ্খলভাবে সংযোজিত। সারা দেশে নদ-নদী জালের মতো বিস্তৃত হয়ে থাকা নদীগুলোর কোনো একটি ভরাট ও দখল হয়ে সংকুচিত হলে শাখা-প্রশাখা নদীগুলোতেও এর প্রভাব পড়ে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মানবকল্যাণার্থে সৃষ্ট ও আমাদের জীবন-জীবিকার নিয়ামক এই নদীগুলোকে ধ্বংসের হাত থেকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।
অন্যদিকে নদীর পাড়ে হাঁটার জায়গা, পার্ক ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা থাকা দরকার। কিন্তু তা যেন কোনোভাবেই নদীর সীমানার মধ্যে না পড়ে। নদীর নির্ধারিত সীমানার পাশে এরকম স্থাপনা করা যেতে পারে যাতে নদীর স্বাভাবিক জলধারা ও পরিবেশ বজায় থাকে।
দেশের নদী ও জলাধারগুলোর অবৈধ দখল ও অবকাঠামো উচ্ছেদের পর আবার দখল ও অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। এধরনের দখল-উচ্ছেদ-দখল কার্যক্রম লোক দেখানো কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। যা সরকারের অর্থ নষ্ট এবং নদী দখল উচ্ছেদের অভিপ্রায়কে বিঘ্নিত করছে। পরিকল্পিত ও স্থায়ীভাবে দখল-উচ্ছেদের লক্ষ্যে কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে দখলদারদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ, এই উচ্ছেদ পরবর্তী দখল কার্যক্রম অবসানের অন্যতম উপায়।