বোকা সেজে অন্যদের বোকা বানায় তারা

নিজেরা বোকা সেজে অন্যদের বোকা বানায়। এ চক্রের ৭ সদস্য গ্রেফতার হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে র্যাব তাদেরকে গ্রেফতার করে। এরা নগরীর অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় যানজটে আটকে থাকা দামি গাড়ি টার্গেট করে সৌদি রিয়ালের নামে জালনোট বিক্রি করতো। আর কম দামে বিদেশি টাকা পেয়ে অনেকে তাদের ফাঁদে পা দিতো। মোটা অঙ্কের বিনিময়ে গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা বান্ডিল ধরে রিয়াল কিনতো। বান্ডিল খুলে দেখার আগেই প্রতারক চক্র বলতো- পুলিশ আসছে ঝামেলা হবে। এই বলে টাকা নিয়ে সরে পড়তো। পরে দেখা যেত বান্ডিলের ওপরে ও নিচে কয়েকটা রিয়াল, বাকিগুলো সাদা কাগজ।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কাওরানবাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল           সারওয়ার বিন কাশেম। গ্রেফতারকৃতরা হলেন-আবু শেখ (৩৮), শাহিন মাতব্বর (৩৭), মহসিন মিয়া (৪৫), আবুল বাশার (৪০), কামরুল শেখ (৩৫), ইশারত মোল্লা (২৭) ও আব্দুর রহমান মোল্লা (৪০)। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১ হাজার ৫০০ রিয়েল, ৩ হাজার ৮২২ টাকা ও ১০টি মোবাইল ফোন।

র্যাব-১ এর অধিনায়ক সারোয়ার বিন কাশেম জানান, চক্রটি বিভিন্নভাবে জনসাধারণকে ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করতো। প্রতারকদের সবাই পেশায় রংমিস্ত্রী, সেই সুবাদে সহজেই মানুষের বাসায় প্রবেশ করতে পারতো। কারো বাসায় ঢুকে বয়স্ক ব্যক্তিদের টার্গেট করতো। তারা রিয়েল দেখিয়ে কমমূল্যে বিক্রি করার কথা বলে প্রলোভন দেখাতো। আর ওই ব্যক্তি রাজি হলেই টাকার বিনিময়ে ওপরে কয়েকটি রিয়েল নোট ভেতরে কাগজ দিয়ে বানানো বান্ডেল দিয়ে কেটে পড়তো। এর বাইরে গুলশান-বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় যানজটে আটকে থাকা প্রাইভেটকারের যাত্রীদের টার্গেট করতো। তারা গাড়ির বাইরে থেকে রিয়েলের নোট দেখাতো এবং অনেক নোট আছে বলে জানাতো। এ সময় কমদামে কিনতে আগ্রহী সেজে প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যরা আসতো। তখন টার্গেট করা ব্যক্তি কেনার ফাঁদে পা দিলে তারা টাকার বিনিময়ে রিয়েলভর্তি ব্যাগ দিয়ে পুলিশ দেখে ফেলবে বলে দ্রুত কেটে পড়তো। কিছু বুঝে উঠার আগেই কাগজ বা কাপড় দিয়ে মোড়ানো ভুয়া বান্ডেলে প্রতারণার  শিকার হতো টার্গেট করা ব্যক্তি। এছাড়া, হজ ক্যাম্পকে টার্গেট করে চলতো তাদের প্রতারণা। সেখানে গ্রাম থেকে আসা লোকদের ফাঁদে ফেলে এ পর্যন্ত লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।

কখনো কখনো নিজেরা বোকা সেজে টার্গেট করা ব্যক্তিকে বোকা বানাতো। রিয়েলের নোট দেখিয়ে কিছু বুঝে না এমন ভাব নিতো। আর সেই সুযোগে টার্গেট করা ব্যক্তি রিয়েল কেনার জন্য রাজি হলেই প্রতারণার শিকার হতো। চক্রটি রিয়েল হস্তান্তর করার জন্য বিভিন্ন শপিংমল কিংবা জনবহুল জায়গা ঠিক করতো, যেন টাকা নিয়ে দ্রুত কেটে পড়তে পারে।

সারওয়ার বিন কাশেম আরো বলেন, আবু শেখ এই চক্রের মূল হোতা। তার নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি অভিনব পন্থায় প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। এমন আরও দুই-একটি চক্র রাজধানীতে সক্রিয় থাকতে পারে, তাদের বিষয়ে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় ভাটারা থানায় একটি মামলা হয়েছে।