টেস্ট বাতিল :আজই দেশে ফিরছেন ক্রিকেটাররা

আজ সকালে শুরু হওয়ার কথা ছিল ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট।  সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল বাংলাদেশ দল। অনুশীলন করেছিল, সংবাদ সম্মেলনও হয়ে গেল। কিন্তু হঠাত্ এক ঝড়ে এলোমেলো হয়ে গেল সব। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুই দুটি মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় কেঁপে উঠল বিশ্ব। প্রাণ হারালেন ৪৯ জন মানুষ। আর এরই মধ্যে একটি মসজিদের হামলায় একেবারে কয়েক গজের দূরত্বে থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা। পার্কের ভেতর থেকে পালিয়ে বাঁচলেন ক্রিকেটাররা।

এ ভয়াবহ হামলার পরপরই আইসিসি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট আলোচনা করে বাতিল করে আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট। তখনই জানিয়ে দেওয়া হয়, দ্রুততম সময়ে ক্রিকেটারদের  দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। পরে বিসিবির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয় যে, আজ দুপুরে নিউজিল্যান্ড ত্যাগ করবেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। এদিকে গতকাল ঢাকায় নিজের বাসভবনে এ ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, নিউজিল্যান্ডে দলের সঙ্গে তেমন কোনো নিরাপত্তা ছিল না। এরপর থেকে কোনো দেশে সফরে যাওয়ার আগে নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চয়তা পেয়ে তবেই যাবে বাংলাদেশ দল।

গতকাল বাংলাদেশ দলের খেলার আগে শেষ দিনের অনুশীলন ছিল। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে তারা অনুশীলনে পৌঁছায় হেগলি ওভালে। সেখানে প্রথমে সিদ্ধান্ত হয় জুমার নামাজ পড়ে এসে লাঞ্চ করবেন ক্রিকেটাররা। পরে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ সংবাদ সম্মেলনে গেলে তার জন্য মসজিদে যাওয়ায় একটু বিলম্ব হয় ক্রিকেটারদের। রিয়াদের সংবাদ সম্মেলন শেষে বাসে করে ম্যানেজার, অ্যানালিস্টসহ ১৭ জন বাংলাদেশ দলের সদস্য রওনা দেন মসজিদের উদ্দেশে।

মসজিদের কাছাকাছি আসতেই প্রথমে ক্রিকেটাররা দেখেন এক রক্তাক্ত মহিলা বের হয়ে আসছেন। একটু পর আরেক মহিলা বেরিয়ে এসে ক্রিকেটারদের ভেতরে যেতে নিষেধ করেন। বলেন, ভেতরে গোলাগুলি চলছে। এ খবরে আতঙ্কিত দলের সদস্যরা প্রথমে বাসের মধ্যে মাথা নিচু করে অপেক্ষা করতে থাকেন পুলিশ আশার জন্য। কিন্তু ১০-১৫ মিনিট পার হয়ে যাওয়ার পরও কোনো সাহায্য না আসায় ক্রিকেটাররা বাস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট বলছিলেন, তারা ভয় পাচ্ছিলেন, মসজিদের বাইরেও গোলাগুলি শুরু হওয়ার।

বাস থেকে নেমে ক্রিকেটাররা পাশের হেগলি পার্কে ঢুকে পড়েন। সেখান থেকে প্রায় ১৫ মিনিট দৌড়ে চলে আসেন স্টেডিয়ামে। আর এখানেই ড্রেসিংরুমে প্রথম নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আসেন ক্রিকেটাররা। পরে মাঠ থেকে পুলিশ স্কর্ট করে হোটেলে নিয়ে আসে ক্রিকেটারদের।

ক্রিকেটাররা এ ঘটনায় মারাত্মক মুষড়ে পড়েছেন। তারা খেলার মতো অবস্থায় আর ছিলেন না। নিরাপদে দেশে ফিরতে পারাটাই তখন প্রধান ব্যাপার হয়। তাদের এই ইচ্ছাকে সম্মান করেছে আইসিসি, বিসিবি ও নিউজিল্যান্ড।

বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কোনো বিশেষ নিরাপত্তা না থাকায় সারা বিশ্বই অবাক হয়েছে। এ ব্যাপারে বলতে গিয়ে বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ‘আজকের ঘটনার পর এটা নিশ্চিত, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এখন থেকে যেই দেশেই আমাদের দল যাক না কেন, আমাদের মিনিমাম রিকয়ার্ড সিকিউরিটি এনশিউর করতে হবে। এটা যারা দিতে পারবে তাদের ওখানেই আমরা খেলতে যেতে পারব। এ ছাড়া খেলতে যাওয়া সম্ভব না।’