সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় চট্টগ্রাম শহরসহ বিমান বন্দরমুখী সড়কে যানজট নিরসন সম্ভব হচ্ছে না। চট্টগ্রাম বন্দরের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকামুখী এবং চট্টগ্রাম শহরসহ তত্সংলগ্ন এলাকায় থাকা বেসরকারি কন্টেইনার ইয়ার্ডসমূহে রেলযোগে কন্টেইনারগুলো পৌঁছে দিলে সড়কপথে যানজট অনেকাংশে কমে আসতো। চট্টগ্রাম শহর এবং এর আশ-পাশে থাকা অধিকাংশ প্রাইভেট আইসিডি রেলপথ সংলগ্ন হওয়ায় কন্টেইনারসমূহ বন্দর থেকে সহজে ওই সকল আইসিডিতে পৌঁছানো যায়।
চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান পরিকল্পনাবিদ মাহবুব মোর্শেদ জানান, প্রায় চার বছর পূর্বে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মাধ্যমে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে উক্ত প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এডিবি চট্টগ্রাম বন্দরের উক্ত প্রস্তাবে অর্থায়নেও রাজি হয়েছিল। কারণ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯২ ভাগ পণ্য পরিবহন করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সড়ক, রেল ও নৌপথে কন্টেইনারসমূহ পরিবহন করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগ পণ্য সড়ক পথে পরিবহন হয়।
সড়ক পথে বন্দর থেকে ট্রলার, কাভার্ড ভ্যান কিংবা ট্রাকযোগে প্রাইভেট আইসিডি কিংবা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পণ্য পৌঁছানো হয়। আমদানি পণ্যের মধ্যে ৩৭টি আইটেমবাহী কন্টেইনার প্রথমে প্রাইভেট আইসিডিসমূহে যায়। চট্টগ্রামসহ তত্সংলগ্ন এলাকায় থাকা ১৯টি প্রাইভেট আইসিডি থেকে ওই সকল পণ্য আবার আমদানিকারকের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছায়। বাকি পণ্যসমূহ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরাসরি আমদানিকারকের গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু রপ্তানি পণ্যের শতকরা ১০০ ভাগ কন্টেইনার প্রাইভেট আইসিডি হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজে ওঠে।
থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বন্দরের সঙ্গে প্রাইভেট আইসিডিসমূহের রেলওয়ে নেটওয়ার্ক থাকলে পণ্য পরিবহন সহজতর হবে। একই সঙ্গে সড়ক পথে যানজটও অনেক কমে যাবে। কারণ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কন্টেইনারসমূহ ট্রেলার, কাভার্ডভ্যান, ট্রাকযোগে প্রাইভেট আইসিডিসমূহে নেওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শহর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর ও শাহ আমানত বিমান বন্দর অভিমুখী সড়কসমূহে প্রায়শই যানজট লেগে থাকে। তাছাড়া বিমান বন্দর সড়কসহ চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন এলাকায় শত শত ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ট্রেলার দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। চট্টগ্রাম বন্দর, বিমান বন্দর, চট্টগ্রাম ইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেড, দেশের প্রধান তেল স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহে যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি মাত্র সড়ক হওয়ায় যে কেউ শহর থেকে ওই সকল গন্তব্যে পৌঁছার জন্য অন্তত দুই ঘণ্টা পূর্বে রওয়ানা দিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে বিমান যাত্রীরা তাদের ফ্লাইটও মিস করে। শুধুমাত্র বন্দরের পণ্য পরিবহনে ব্যবহূত যানবাহন চলাচলের কারণে ওই এলাকায় যানজট লেগেই থাকে।