কুড়িগ্রামের রৌমারীতে অবৈধভাবে গর্ভপাত ঘটাতে গিয়ে জামেলা বেগম (৪২) নামের এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই ওই গৃহবধূর মৃত্যু ঘটে। হাসপাতালে ভর্তি না দেখিয়ে এবং চিকিত্সকদের অবহিত না করে অবৈধ উপায়ে গর্ভপাতের ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত হোসনে আরা বেগম নামের এক নার্সকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রৌমারী উপজেলার দুর্গম চরকাজাইকাটা গ্রামের দিনমজুর আব্দুল শেখের স্ত্রী নিহত জামেলা বেগম। তাদের ঘরে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। আব্দুল শেখ অভিযোগ করে বলেন, ‘৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে আসার পর নার্স হোসনে আরা বেগমের সঙ্গে ৫ হাজার টাকা রফা হয়। ৩ হাজার টাকা নগদ দেওয়া হয়। তিনি হাসপাতালের লেবার রুমে কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে চিকিত্সার কাজ শুরু করেন। প্রায় ঘণ্টা দেড়েক পর নার্স এস বলে রোগী মারা গেছে। আমার স্ত্রীর এই করুণ মৃত্যু আমি মেনে নিতে পারছি না। অবশ্যই নার্সের অবহেলা ও গাফিলতি ছিল।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের নার্স হোসনে আরা বেগম ভর্তি না দেখিয়ে এবং কর্মকর্তা বা চিকিত্সককে না জানিয়ে অবৈধ উপায়ে ওই গর্ভপাত ঘটাতে গিয়েছিলেন।
এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘রোগী মারা যাওয়ার পর বিষয়টি আমরা জানতে পারি। ঘটনার পর পরই বিষয়টি জেলা সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়েছে। অভিযুক্ত হোসনে আরা বেগমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত পাঠানো হচ্ছে।
এদিকে হাসপাতালে গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ অভিযুক্ত নার্সকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। নিহত গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানোরও উদ্যোগ নেয় থানা পুলিশ। এ প্রসঙ্গে রৌমারী থানার ওসি আবু মো. দিলওয়ার হাসান জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।