২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস ঘোষণার দাবি

 
একাত্তরের পঁচিশে মার্চ কালরাতে বর্বর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর গণহত্যার শিকার বীর বাঙালিদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করলেন নিউইয়র্কের বাংলাদেশিরা। ভয়াল কালরাতের সেই গণহত্যার প্রতিশোধ স্পৃহায় মুক্তির সংগ্রামে শামিল হয়ে বীর বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তি সংগ্রামে। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে হানাদার পাক বাহিনীকে পরাজিত করে বাংলার দামাল মুক্তিযোদ্ধারা ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার লাল সূর্য। 
 
একাত্তরের বিভীষিকাময় সেই ভয়াল রাতের স্মরণে এবং মহান বিজয় বিজয় দিবস উপলক্ষে ‘জেনোসাইড ৭১ ফাউন্ডেশন, ইউএসএ জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি সেন্টারে স্থানীয় সময় ২৫ মার্চ শুক্রবার দিবাগত রাতে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
 
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে রাত ১২টা ১ মিনিটে আধারে নিমজ্জিত কক্ষে মোমবাতি জ্বালিয়ে কালরাতকে স্মরণ করা হয়। নিউইয়র্কে বসবারত একাত্তরের রণাঙ্গণের বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রগতিশীল মুক্তচিন্তার মানুষেরা এতে অংশ নেন। এর আগে সন্ধ্যা থেকে কালরাতের গণহত্যার শিকার বীর বাঙালি এবং মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণ করেন অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষেরা। এ অনুষ্ঠানে ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস ঘোষণার দাবি জানানো হয়। 
 
IMG0
 
প্রবাসের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জিএইচ আরজুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে নিহতদের স্মরণে প্রার্থনা সঙ্গীত পরিবেশন করেন জলি কর। এরপর স্বাগত বক্তব্য দেন জেনোসাইড ৭১’-এর সভাপতি ড. প্রদীপ রঞ্জন কর। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্যের পাশাপাশি ছিল গান ও কবিতা। 
 
অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের গান পরিবেশন করেন সঙ্গীত পরিষদের শিল্পীরা। পরিচালনায় ছিলেন সঙ্গীত পরিষদের সভাপতি বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী কাবেরী দাশ। কবিতা আবৃত্তি করেন আবীর আলমগীর, মুমু আনসারী, সেমন্তী ওয়াহেদ, পারভীন সুলতানা, শুক্লা রায় প্রমুখ। প্রার্থনা সঙ্গীত পরিবেশন করেন সুব্রত দত্ত। 
 
আলোচনায় অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মেরাজ, খুরশীদ আনোয়ার বাবলু, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা, পেশাজীবী সমš^য় পরিষদের নেতা কৃষিবিদ আশরাফুজ্জামান, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি মোর্শদা জামান, প্রকৌশলী আশরাফুল হক, ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটসের সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন, বঙ্গমাতা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ সোহাগ, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়া প্রমুখ।  
 
অনুষ্ঠানে ‘জেনোসাইড’ শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন জেনোসাইড ৭১’র সভাপতি ড. প্রদীপ রঞ্জন কর। আলোচনায় অংশ নেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান, সাপ্তাহিক ঠিকানার প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ ফজলুর রহমান প্রমুখ। 
 
মূল প্রবন্ধে ড. প্রদীপ রঞ্জন কর একাত্তরের গণহত্যার ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি দেশে দেশে গণহত্যা, বাংলাদেশে গণহত্যা, গণহত্যার পাশাপাশি ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন, বাঙালিদের ওপর পাক সেনাদের নির্যাতনের নমূনা, বীরঙ্গণা নারী, গণহত্যা নিয়ে নিরবতা, পাকিস্তানিদের গণহত্যা অস্বীকারসহ নানা বিষয় তুলে ধরেন। পাশাপাশি বেশকিছু প্রস্তাবনা পেশ করে। 
 
এসবের মধ্যে রয়েছে- গণহত্যাকারীদের বিচার ও গণহত্যা রোধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনমত সংগঠিত করা, একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর চিহ্নিত ১৯৫ যুদ্ধাপরাধীর বিচার, বিশ্বশান্তি ও মানবতার বোধের প্রতি বিশ্বের সব জাতি জাতি ও রাষ্ট্রকে দায়বদ্ধ থাকা, মানব ইতিহাসে যত গণহত্যা হয়েছে এর মধ্যে বাংলাদেশের ১৯৭১’র গণহত্যা স্বপ্নতম সময়ে সর্ববৃহৎ। তাই ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসাবে ঘোষণার দাবি জানানো হয়।