নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে:সুজন

স্পোর্টস রিপোর্টার

ক্রাইস্টচার্চে গত শুক্রবার ভয়াল সেই দুপুরে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। আল-নুর মসজিদের সন্ত্রাসী হামলা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে নিউজিল্যান্ডে কতটা নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটিয়েছে বাংলাদেশ দল। গোটা সফরে টাইগারদের সঙ্গে ছিল না কোনো নিরাপত্তা কর্মী। এ ঘটনার পর টনক নড়ছে বিসিবিরও।

ভবিষ্যতে নিজেদের তৈরি নিরাপত্তার মান পূর্ণ না হলে কোনো দেশে দল পাঠাবে না বিসিবি। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন বলেছেন, সামনে যে কোনো দেশ সফরে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। মিরপুর স্টেডিয়ামে গতকাল সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মতোই অগ্রবর্তী নিরাপত্তা দল পাঠাতে হবে। তাদের মূল্যায়ন, আয়োজকদের নিরাপত্তা আয়োজন দেখার পরই ক্রিকেটারদের পাঠানো হবে।

গত শুক্রবার ঘটনার পরপরই ভীত-সন্ত্রস্ত বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলেছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। তিনি বলেছেন, ইনজুরির চিকিত্সার মতো নিরাপত্তাকেও এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। গতকাল বিসিবির এই পরিচালক বলেছেন, ‘আমরা যেমন ওদের ইনজুরি কাটানোর জন্য কাজ করি, ভালো জায়গায় চিকিত্সার জন্য পাঠাই, তেমনই আমাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তভাবে এই নিরাপত্তার বিষয়টি দেখা উচিত। সেটি আমরা যেখানেই পাঠাই। ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়া যেখানেই হোক।’

প্রতিটি সফরের আগে অগ্রবর্তী দল পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। নিরাপত্তা নিয়ে আরও সচেতন হতে হবে। গতকাল বিসিবি একাডেমি মাঠে তিনি বলেন, ‘অন্য দেশগুলো নিরাপত্তার ব্যাপারে যেভাবে সচেতন থাকে আমাদের দেশেরও সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। সেটি যেখানেই খেলা হোক, ইংল্যান্ড কিংবা অস্ট্রেলিয়া হোক আমাদের বাংলাদেশে যে নিরাপত্তা দল আছে তারা যাবে এবং নিরাপত্তা নিয়ে আলাপ করবে।’

সিরিজ আয়োজনকারী দেশের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরখ করতে হবে। কারণ অস্ট্রেলিয়ার মতো বাংলাদেশও আন্তর্জাতিক দল। সাবেক এই অধিনায়ক বলেছেন, ‘এখানে যখন ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া কিংবা নিউজিল্যান্ড আসে তখন পুরো নিরাপত্তা দল আসে। আমাদের হোটেল চেক করে, রাস্তাঘাট দেখে। কোন রাস্তা দিয়ে বাস আসবে এবং কোন দিক দিয়ে হোটেলে যাবে প্রত্যেকটি জিনিস দেখে। এমনকি প্রত্যেকটি ভেন্যুতেই যায়। আমার মনে হয় বাংলাদেশেরও এমন করা উচিত। কারণ ওরাও আন্তর্জাতিক দল, আমরাও আন্তর্জাতিক দল। সেক্ষেত্রে প্রতিটি সফরের আগেই আমাদের নিরাপত্তা দল যাওয়া উচিত বলে আমার মনে হয়।’

নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় সতর্ক ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া। যেটি খুবই যৌক্তিক বলেই মনে করেন খালেদ মাহমুদ সুজন। তার মতে, ক্রিকেটাররা অনেক পরিণত। ক্রাইস্টচার্চের ভয়াবহতা ক্রিকেটাররা দ্রুতই কাটিয়ে উঠবেন। দেশে ফেরার পর কয়েকদিনের মধ্যেই ক্রিকেটাররা মানসিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠবেন বলে আশা সুজনের।

গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয় ছেলেরা যথেষ্ট পরিণত। সবাই আসলে বড় হয়ে গিয়েছে। আর এটি তো এমন না যে বিশ্বে প্রথম ঘটল। এমন কিন্তু অহরহ ঘটছে। বাংলাদেশে ঘটেছে। আমরা হোলি আর্টিজানের ঘটনা জানি কতটা নৃশংস হয়েছিল। আমার মনে হয় অবশ্যই একটা শক তো পেয়েছে ছেলেরা, তবে আমার কাছে মনে হয় এখান থেকে তারা দ্রুত ফিরে আসবে।’