মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে লেনদেন

দিন দিনই বাড়ছে মোবাইল ব্যাংকিং এর গ্রাহক ও লেনদেনের পরিমাণ। সহজে টাকা পাঠানোর সুযোগের কারণে এমনটা হচ্ছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ১৬ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। আর দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে গড়ে ৫৫২ কোটি টাকা। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় যা ৫১ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি।
 
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সুবিধাবঞ্চিতদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে ২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং চালুর অনুমতি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলো বিভিন্ন মোবাইল ফোন অপারেটরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এ সেবা দিচ্ছে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক প্রথম এ সেবা চালু করলেও এখন সবচেয়ে এগিয়ে আছে ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিকাশ। এখন পর্যন্ত ২৯টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অনুমতি নিলেও চালু করেছে ১৮টি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা থাকলেও মোট লেনদেনের ৫৫ দশমিক ১১ শতাংশ হয় বিকাশের মাধ্যমে। আর ডাচ্-বাংলার ৩৮ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং অন্যান্য ব্যাংকের সর্বমোট ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ মার্কেট শেয়ার রয়েছে।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য থেকে জানা গেছে, আগের বছরের একই মাসের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণ বাড়লেও আগের মাস জানুয়ারির তুলনায় এক দশমিক শুন্য পাঁচ শতাংশ কমেছে। আগের বছরের ফেব্রুয়ারির চেয়ে সারাদেশে এজেন্ট সংখ্যা ৩৩ হাজার ৫৭৬টি বেড়ে পাঁচ লাখ ৭৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে মোট তিন কোটি ৪০ লাখ গ্রাহক মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। এর মধ্যে চালু রয়েছে এক কোটি ৪০ লাখ অ্যাকাউন্ট। আগের বছরের একই সময়ে দুই কোটি ৫৯ লাখ অ্যাকাউন্টের মধ্যে চালু ছিল এক কোটি ১১ লাখ অ্যাকাউন্ট। কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে টানা তিন মাস কোনো ধরনের লেনদেন না হলে তা ইন-একটিভ অ্যাকাউন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়।
 
২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং চালুর অনুমতি দিলেও পরের বছর এ বিষয়ে একটি নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিয়ম অনুযায়ী শুধু মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট রয়েছে এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ মাধ্যমে লেনদেন করার কথা। তবে অনেক এজেন্ট নিয়ম না মানায় তাদের এজেন্টশীপ বাতিল করা হয়েছে। সঠিক পরিচিতি না থাকায় বেশ কিছু অ্যাকাউন্টও বন্ধ করা হয়েছে।
  
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোবাইল ফোন অপারেটরের মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং পরিচালিত হলেও বাংলাদেশে পরিচালিত হয় ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকগুলো মোবাইল ফোন অপারেটরদের মাধ্যমে চুক্তি করে এজেন্টের মাধ্যমে এ সেবা দিয়ে থাকে। সেবার বিপরীতে ব্যাংক, মোবাইল অপারেটর ও এজেন্ট এই তিন স্তরে কমিশন ভাগ হয়ে যায়। ফলে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মোবাইল ব্যাংকিং এ সেবা গ্রহণকারীর খরচ বেশি।