বাংলাদেশের অটিজম বিষয়ক পরামর্শক কমিটির চেয়ারপারসন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল বলেছেন, অটিস্টিক শিশুদের উন্নয়নে বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে। তারা আমাদেরই সন্তান। একজন সুস্থ সবল শিশুর মতো তাদেরও বেড়ে ওঠার সমান অধিকার রয়েছে। দেশের ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে অটিজম আজ আন্তর্জাতিক সমস্যা। এই সমস্যা দূর করতে পারিবারিক পর্যায়ে থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষ মনোযোগই মূল হাতিয়ার।'
বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে শুক্রবার জাতিসংঘ সদর দফতরে ‘অটিজম মোকাবেলা: এসডিজির আলোকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কৌশল’ শীর্ষক এক হাই লেভেল ইভেন্টে অংশ নিয়ে এ আহ্বান জানান সায়মা হোসেন।
IMG0
বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০১৬ উপলক্ষে জাতিসংঘে ১ এপ্রিল দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উদযাপনে জাতিসংঘের আমন্ত্রণে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন। এর আগে সকালে তিনি জাতিসংঘ সদর দফতরে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উদযাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ অনুষ্ঠানে ‘বৈষম্য হ্রাস (এসডিজি ১০)’ শীর্ষক আলোচনায় প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের স্ত্রী ইয়্যু সুন তায়েক, বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন ও ভারত, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া এবং অটিজম স্পিকসসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সংস্থার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
আলোচনা সভায় অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা; টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অব্যাহত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সকলের কর্মের নিশ্চয়তা বিধান (এসডিজি ৮); অবারিত প্রবেশাধিকার (এসডিজি১১); এবং পরিবর্তনের লক্ষে যে পার্টনারশিপ (এসডিজি ১৭) এ চারটি বিষয়েও আলোচনা হয়।
IMG1
সায়মা ওয়াজেদ হোসেন বিকাল ৩টায় ‘অটিজম মোকাবেলা: এসডিজির আলোকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কৌশল’ শীর্ষক হাই লেভেল ইভেন্টে মূল বক্তা হিসেবে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সায়মা হোসেন অটিজম আন্দোলনে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অটিজম আন্দোলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি বিশ্বব্যাপী ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের জন্ম নিবন্ধন, অটিস্টিক শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে পারিবারিক ভূমিকা, জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি বিষয়ে বাংলাদেশ রোল মডেল হিসাবে বিশ্ববাসীর স্বীকৃতি পাচ্ছে।
সায়মা হোসেন আরও বলেন, অটিস্টিক শিশুদের মানসিক বিকাশে সহায়ক প্রশিক্ষণ প্রদানে বিশেষ মডিউল তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটও গড়ে তোলা হয়েছে।
সায়মা ওয়াজেদ হোসেন ২০১২ সাল থেকে প্রতিবছর জাতিসংঘের এ অটিজম সচেতনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে একজন আন্তর্জাতিক অটিজম বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমন্ত্রিত হন। বিশ্বব্যাপী অটিজম সচেতনতা সৃষ্টিতে তার অবদানের জন্য তিনি সকলের প্রশংসা অর্জন করেন।
অটিজম বিষয়ে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার অবদানের জন্য ডব্লিউএইচও ২০১৪ সালে সায়মা ওয়াজেদ হোসেনকে ‘এক্সসেলেন্স অ্যাওয়ার্ডে’ ভূষিত করে। প্রতিটি দেশের নীতিতে অটিজম অন্তর্ভুক্তিকরণ, অটিস্টিক শিশুদের প্রতি তার অঙ্গীকার এবং জাতিসংঘ সংস্থার কর্মকাণ্ডে অটিজমকে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ডব্লিউএইচও তাকে এ পুরস্কার প্রদান করে। তিনি ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশে অটিজম সচেতনতা উদ্বুদ্ধকরণ কর্মকাণ্ড শুরু করেন। ফলে শিশুর জন্মের দুই বছরের মধ্যে অটিজম সনাক্তকরণ এবং অটিস্টিক শিশু ও তাদের পরিবারকে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে দেশে একটি জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অটিজম সোসাইটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় এক শতাংশ মানুষ অটিজম আক্রান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ৬৮ জন শিশুর মধ্যে একজন অটিস্টিক।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পরই অটিস্টিকসহ মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদেরকে মূল স্রোতে এনে দেশের আর্থ-সামাজিক ব্যাপক উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেন। এ লক্ষে সরকার অটিজম সচেতনতা, সামজিক অন্তর্ভুক্তিকরণ, তাদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা কর্মকাণ্ড পরিচালনার লক্ষে যে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সরকার ২০১৩ সালে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করে। মানসিক প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছে।
অটিজম বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটি সরকারের এসব উদ্যোগ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের তদারকি করছে। সায়মা ওয়াজেদ হোসেন দক্ষিণ এশিয় অটিজম নেটওয়ার্ক গড়ারও মূল উদ্যোক্তা। তার উদ্যোগেই ২০১১ সালে ঢাকায় প্রথমবারের মতো অটিজম বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।