বিদেশবিভূঁইয়ে নিজ আবাস গড়লেও সঙ্গীতজ্ঞ মুত্তালিব বিশ্বাসের মনের মধ্যে বাস করে বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি। সঙ্গীত সাধনা তাকে পৌঁছে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায়। সতীর্থদের কাছে তিনি সঙ্গীতের মন্ত্র। আর বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও সঙ্গীতপিপাসুরা তার গান শোনেন মন্ত্রমুগ্ধের মত। দীর্ঘসময় পরে হলেও রবিবার সন্ধ্যায় ব্যতিক্রম এক আয়োজনে মুত্তালিব বিশ্বাসের কণ্ঠে একে একে ৫০টি গান শুনলেন প্রবাসের সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষেরা। এ অনুষ্ঠানে তাকে সম্মাননা জানানো হয়।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এস্টোরিয়ার ক্লাব সনমে অনুষ্ঠিত মুত্তালিব বিশ্বাসের ‘জ্বেলে দিয়ে যাও প্রদীপখানি’ শীর্ষক সঙ্গীত সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান। অনুষ্ঠানের মাঝামাঝি সময়ে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, মুত্তালিব বিশ্বাসের গান এখনো সঙ্গীতপিপাসুদের মনকে দোলা দেয়। তার প্রমাণ আজকের হলভর্তি দর্শক।
সাহিত্য সমালোচক ও সাপ্তাহিক বাঙালি সম্পাদক কৌশিক আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সঙ্গীত সন্ধ্যায় মুত্তালিব বিশ্বাসের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অনুষ্ঠানের আয়োজক নিউইয়র্কের রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফরমিং আর্টসের (বিপা) কর্মকর্তারা। এছাড়া অনুষ্ঠানটির সহযোগিতায় ছিলেন ক্লাব সনম এবং আবৃত্তিকার জিএইচ আরজু।
সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলা এ অনুষ্ঠানে মুত্তালিব বিশ্বাস তার বাছাই করা ৫০টি গান পরিবেশন করেন। তাকে তবলায় সহযোগিতা করেন পিনাকপানি গোস্বামী, মন্দিরায় শহীদ উদ্দিন এবং কি-বোর্ডে কেতকী ফারহানা।
উল্লেখ্য, সঙ্গীতজ্ঞ মুত্তালিব বিশ্বাস সঙ্গীত নিয়ে লেখালেখিও করেন। তার বেশকয়েকটি প্রকাশনাও রয়েছে। এরমধ্যে সঙ্গীত বিতর্ক, অশ্রুনদীর তীরে এবং মন্দ্রমধ্যতার অন্যতম।