আদালতে খুনি টারান্ট

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দু’টি মসজিদে হামলায় অন্তত ৪৯ জনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে ব্রেন্টন টারান্টকে গতকাল আদালতে হাজির করা হয়। তার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতেও এতগুলো মানুষ হত্যার অনুশোচনা দেখা যায়নি টারান্টের চেহারায়। বরং শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদের প্রতীক দেখিয়েছে সে। হামলার আগে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইশতেহার পাঠিয়েছিল টারান্ট। নিউজিল্যান্ড সরকার অস্ত্র আইনে পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার করেছে। এদিকে ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্যে অস্ট্রেলিয়ার এক সিনেটরের ওপর ডিম হামলা করেছে এক তরুণ। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের

তারপরও মুখে হাসি

২৮ বছর বয়সী টারান্ট গায়ে সাদা রংয়ের কয়েদীদের শার্ট এবং হাতে হ্যান্ডকাফ বাধা অবস্থায় আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে তোলার পর সে হাসতে থাকে। সে আদালতের ভেতরই শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদের প্রতীক দেখায়। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, আদালতে স্বল্প সময়ের উপস্থিতিতেই ট্যারেন্ট হাতকড়া বাঁধা হাতে আঙুল দিয়ে ‘শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্বের’ বর্ণবাদী প্রতীক দেখাচ্ছিল। মানুষের মধ্যে ‘শ্বেতাঙ্গরা শ্রেষ্ঠ’ এই মতবাদে যারা বিশ্বাস করে তারা আঙুলের মাধ্যমে বিশেষ চিহ্ন তৈরি করে প্রতীক হিসেবে তার প্রকাশ ঘটায়। এক্ষেত্রে বৃদ্ধা ও তর্জনি আঙুল বৃত্তাকারে একসঙ্গে যুক্ত করলে তা ‘পি’ এর আকৃতি নেয় যা দিয়ে ‘পাওয়ার’ বা ‘শক্তি’ বোঝানো হয়। আর বাকি তিনটি আঙুল তখন ‘ডাব্লিউ’ এর রূপ নেয় যা দিয়ে বোঝানো হয় ‘হোয়াইট’ বা ‘শ্বেতাঙ্গ।’ টারান্টের বিরুদ্ধে কেবল খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এক মিনিটের মতো সময় এজলাসে ছিল টারান্ট। এই সময়ে তার বিরুদ্ধে আনা খুনের অভিযোগ পড়ে শোনান বিচারক পল কেলার।

এর আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন বলেন, এই হামলা ছিল একটি উগ্র সন্ত্রাসবাদী হামলা এবং প্রধান সন্দেহভাজন হামলাকারীর আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ছিল। জেসিন্ডা আর্ডেন আরো জানান, ওই ব্যক্তি ছাড়া আরো দু’জন পুলিশের হেফাজতে আটক আছে। প্রধানমন্ত্রী আর্ডেন জানিয়েছেন, আটকদের কারো বিরুদ্ধে কোন অতীত অপরাধের রেকর্ড নেই। তিনি অস্ত্র আইনে পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার করেছেন। শুক্রবারের হামলার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রথম দাউদ নবী নামে একজনের নাম প্রকাশ করেছে তার পরিবার। ৭১ বছর বয়সী নবী ১৯৮০ সালে আফগানিস্তান থেকে নিউজিল্যান্ডে চলে এসেছিলেন। হতাহত অন্যান্যদের নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে জুম্মার নামাজরত শতশত মুসুল্লির ওপর ওই হামলা চালায় সশস্ত্র বন্দুকধারী। ওই হামলায় আহত হয়েছেন ৪৮ জন। তাদের মধ্যে দুই বছর এবং ১৩ বছর বয়সী দুটি শিশুও আছে। বাংলাদেশের দুইজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পুরো দেশজুড়ে সকল মসজিদ বন্ধ। পুলিশ জানিয়েছে, তারা হামলার শিকার দুটো মসজিদ থেকেই গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে এবং সন্দেহভাজন একজনের গাড়ির ভেতর বিধ্বংসী ডিভাইস পাওয়া গেছে।

সিনেটরের ওপর ডিম হামলা

ক্রাইস্টচার্চে হামলার দায় মুসলিম অভিবাসীদের উপর চাপিয়ে বিতর্ক উসকে দেন অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিং। প্রতিবাদ জানিয়ে সিনেটরের মাথায় ডিম ভেঙে দেন এক তরুণ। শনিবার মেলবোর্নের মোরাবিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনা ঘটে। সিনেটরের ডিম ভাঙার সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সিনেটর অ্যানিং সংবাদ সম্মেলনের রুমে উপস্থিত হয়েছেন। এসময় হঠাত্ পেছন থেকে এক তরুণ তার মাথায় ডিম ভেঙে দেন। আর সেই ঘটনা মোবাইলে ভিডিও করতে থাকেন ওই তরুণ।

ইশতেহার প্রধানমন্ত্রীর কাছে

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর অফিস নিশ্চিত করেছে, হামলার ১০মিনিট আগে তারা টারান্টের ইশতেহারের কপি গ্রহণ করেছিলেন। অন্যান্যদের মেইল করে ইশতেহারটি পাঠানো হয়েছিল।

হামলাকারীর পাকিস্তান সফর

টারান্ট গত বছর পাকিস্তান সফরে গিয়েছিল। সফরে সে পাকিস্তানের মানুষের আতিথেয়তার প্রশংসা করেছিল। পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের একটি শহরের যে হোটেলে সে অবস্থান করেছিল সেই হোটেলের মালিক টারান্টের ছবি দেখে তাকে চিনতে পারেন। টারান্ট লিখেছিলেন, পাকিস্তান এক আশ্চর্য জায়গা, বিশ্বের সবচেয়ে দয়ালু এবং অতিথিপরায়ণ মানুষে পরিপূর্ণ একটি দেশ। ওশু থাং হোটেলের মালিক সৈয়দ ইসরার হোসেন জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের অক্টোবরে টারান্ট তার হোটেলে দুই রাত কাটায়। একাই এসেছিল। হোটেলে অবস্থানকালে সে চারপাশের এলাকায় পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়ায়। অন্যসব পর্যটকের মতই সে অনেক ছবি তোলে।