অর্থ বরাদ্দেও আন্দোলনে অটল পাটকল শ্রমিকরা

বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও পাটখাতে প্রয়োজনীয় অর্থবরাদ্দসহ পাঁচ দফা দাবি আদায়ে চলছে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের লাগাতার আন্দোলন। হাড়ি-পাতিল, থালা-বাসন নিয়ে বিক্ষোভ, ছেড়া কাপড় পরে ভিক্ষুক সেজে দাবি আদায়ের চেষ্টা এবং মহাসড়কে টায়ারে আগুন দেয়াসহ প্রতিদিন আন্দোলনে যোগ হচ্ছে নতুন মাত্রা।
 
লাগাতার শ্রমিক আন্দোলনে প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা শিল্প, বন্দর ও বিভাগীয় শহর খুলনার সঙ্গে সারা দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকছে। ফলে খুলনা-যশোর মহাসড়ক ও রেলপথে চলাচলরত হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
 
 
এদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও মজুরি বাবদ সোমবার সরকারের ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের খবরে আশ্বস্ত হতে পারছেন না আন্দোলনরত খুলনার পাটকল শ্রমিকরা। ইতিপূর্বে দেয়া অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় শ্রমিক নেতারা সরকারের প্রতিশ্রুতিতেও সাড়া দিচ্ছেন না। নগদ টাকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
 
পাঁচ দফার মধ্যে রয়েছে-  পাটখাতে প্রযোজনীয় অর্থ বরাদ্দ, শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি প্রদান, মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, মহার্ঘ ভাতা প্রদান ও আলীম জুট মিল ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া বাতিল। 
 
কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার ভোর ৬টা থেকে শ্রমিকরা নগরীর খালিশপুর নতুন রাস্তা মোড়সহ খুলনা-যশোর মহাসড়কের তিনটি স্থান এবং রেলপথে অবস্থান নিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। শ্রমিকরা নতুন রাস্তার মোড়ে রাজপথ-রেলপথ এবং আটরা- গিলাতলা শিল্পাঞ্চল ও যশোরের রাজঘাট এলাকায় খুলনা-যশোর মহাসড়কের ওপর অবস্থান নেয়।  এই অবরোধ কর্মসূচিতে খুলনা-যশোর অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৭টি জুট মিলের প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক যোগ দিয়েছেন।
 
এদিকে সড়ক ও রেলপথ অবরোধের কারণে দূর পাল্লার হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিকল্প পথে দূর পাল্লার কিছু কিছু যানবাহন চলাচল চললেও ভাড়া হাকানো হচ্ছে দ্বিগুণ। এতে যাত্রীরা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।
 
খুলনা রেল স্টেশনের মাস্টার কাজী আমিরুল ইসলাম জানান, শ্রমিকরা খালিশপুর নতুন রাস্তা মোড়ে রেলপথে অবস্থান নেয়ায় খুলনার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ সকাল ৬টা থেকে বন্ধ থাকছে। এতে অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় খুলনা রেল স্টেশনে অবস্থান করতে হচ্ছে। তবে যশোরের নওয়াপাড়া স্টেশন থেকে ট্রেন যথারীতি গন্তব্যস্থলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে।
 
অর্থ বরাদ্দেও আন্দোলনে অটল শ্রমিকরা : সোমবার সরকারের ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের খবরে আশ্বস্ত হতে পারছেন না আন্দোলনরত খুলনার পাটকল শ্রমিকরা। ইতিপূর্বে দেয়া অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় শ্রমিক নেতারা সরকারের উক্ত প্রতিশ্রুতিতেও সাড়া দিচ্ছেন না। নগদ টাকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
 
জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও মজুরি বাবদ সরকার ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে- মর্মে পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মীর্জা আযম ঘোষণা দেন। পহেলা বৈশাখের আগেই এ অর্থ পরিশোধের কথাও বলা হয়। মন্ত্রীর এ ঘোষণা সোমবার দুপুরের দিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সুবাধে জানতে পারেন শ্রমিকরা।
 
রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মো. সোহরাব হোসেন বলেন, শুনেছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থমন্ত্রীকে এক হাজার কোটি টাকা প্রদানের জন্য বলেছেন। তবে, আমরা অর্থ না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব। এর আগেও প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য অর্থমন্ত্রণালয়কে অর্থ প্রদানের কথা বলেছেন। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে শ্রমিকদের অর্থ পরিশোধের বিষয়ে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
 
খুলনা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান জানান, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের বৈঠকে শ্রমিকদের বকেয়া পাওনাসহ বিজেএমসিকে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬ শ’ কোটি টাকা শ্রমিকদের মজুরিসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধ এবং বাকি চারশ’ কোটি টাকা বিজেএমসির পাটসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের জন্য প্রদান করা হবে। এ বিষয়ে শ্রমিক নেতাদের জানানো হয়েছে। দাবি অনুযায়ী টাকা বরাদ্দ হওয়ায় আন্দোলন প্রত্যাহারের জন্য তিনি শ্রমিক নেতাদের অনুরোধ করেছেন।