দুর্নীতির মামলায় হাইকোর্টের খালাসের রায় বাতিল করে আপিল বিভাগের দেয়া পুনঃশুনানির আদেশ পুনর্বিবেচনার বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর আবেদনে সাড়া দেয়নি সর্বোচ্চ আদালত। এছাড়া বাকি সাতজনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। বুধবার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ কিছু পর্যবেক্ষণসহ টুকুর রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তি করে দেয়।
বাকি সাতজন হলেন-সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, ব্যারিস্টার মীর মোহম্মদ নাসিরুদ্দিন ও তার ছেলে ব্যারিস্টার মীর হেলাল, বিএনপি নেতা আমানুল্লাহ আমান ও তার স্ত্রী সাবেরা আমান এবং মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী।
দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানিয়েছেন, এর ফলে আগের নির্দেশনা অনুসারে খালাসের রায় বাতিল এবং হাইকোর্টে পুনঃশুনানির আদেশই বহাল থাকল।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু:
চার কোটি ৯৬ লাখ ১১ হাজার ৯১৬ টাকার সম্পত্তির হিসাব ও আয়ের উত্স গোপন করার অভিযোগে ২০০৭ সালের মার্চে টুকুর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক শাহরিয়ার চৌধুরী। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বিশেষ জজ আদালত এই মামলার রায়ে টুকুকে নয় বছরের কারাদণ্ড দেয়। ঐ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন টুকু। ২০১১ সালের ১৫ জুন তাকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্টের ঐ রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করে দুদক।
ঐ আবেদনের নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ পরের বছর ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্টের খালাসের রায় বাতিল করে। সেই সঙ্গে এই মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে টুকুর করা আপিল আবেদন হাইকোর্টকে আবারও শুনানির নির্দেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত। ঐ রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে আজ আপিল বিভাগ বহাল রাখে।
নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রী সিগমা হুদা:
মীর জাহের হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে সাবেক বিএনপি নেতা নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রী সিগমা হুদার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২১ মার্চ ধানমণ্ডি থানায় মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম। বিশেষ জজ আদালত ২০০৭ সালের ২৭ অগাস্ট এ মামলায় নাজমুল হুদাকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং আড়াই কোটি টাকা জরিমানা করে। তার স্ত্রী সিগমা হুদাকে দেয়া হয় তিন বছরের দণ্ড । হুদা দম্পতি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১১ সালের ২০ মার্চ হাইকোর্ট তাদের খালাস দেয়।
এরপর দুদক আপিল বিভাগে গেলে ২০১৪ সালের ০১ ডিসেম্বর খালাসের রায় বাতিল করে হাইকোর্টে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত। ঐ রায় পুনর্বিবেচনার জন্যই আপিল বিভাগে আবেদন করেছিলেন নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রী। আপিল বিভাগ তাদের রিভিউ খারিজ করে দিয়েছে।
আমানউল্লাহ আমান ও তার স্ত্রী সাবেরা আমান:
সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বিএনপির যুগ্মমহাসচিব আমানউল্লাহ আমান ও তার স্ত্রী সাবেরা আমানের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে কাফরুল থানায় মামলা করে দুদক। ঐ বছরের ২১ জুন বিশেষ জজ আদালত আমানকে ১০ বছর ও সাবেরাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়। ঐ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১০ সালের ১৬ অগাস্ট হাইকোর্ট তাদের খালাস দেয়।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দুদক আপিল করলে ২০১৪ সালের ২৬ মে হাইকোর্টের রায় বাতিল করে পুনঃশুনানির আদেশ দেয় আপিল বিভাগ। আজ তাদের পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়।
মীর মোহাম্মদ নাসিরুদ্দিন ও তার ছেলে মীর হেলাল:
অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাসিরুদ্দিন ও তার ছেলে মীর হেলালের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ৬ মার্চ গুলশান থানায় মামলা করে দুদক।
বিশেষ জজ আদালত ঐ বছর ৪ জুলাই মীর নাসিরকে ১৩ বছর এবং বাবাকে সহযোগিতার জন্য মীর হেলালকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়। তারা আপিল করলে হাইকোর্ট ২০১০ সালে দুজনের সাজাই বাতিল ঘোষণা করে।
দুদক হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১৪ সালের ৪ জুলাই সর্বোচ্চ আদালত খালাসের রায় বাতিল করে হাইকোর্টে দুইজনের আপিল পুনঃশুনানির নির্দেশ দেয়। এই রায়ের রিভিউ আবেদন বুধবার খারিজ হয়ে যাওয়ায় আগের রায়ই বহাল থাকল।
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী:
অসাধু উপায়ে ৬ কোটি ৫৫ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭৯ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে কুমিল্লার দেবিদ্বারের সাবেক সাংসদ বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, তার স্ত্রী ও দুই ছেলের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২৭ মার্চ মামলা করে দুদক। ঐ বছর ১০ অক্টোবর বিশেষ জজ আদালত মঞ্জুরুল আহসানকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়। তার স্ত্রী ও ছেলেদের খালাস দেয়া হয়।
এই বিএনপি নেতা হাইকোর্টে গেলে তাকে খালাস দেয় আদালত। এরপর দুদকের আপিলে সর্বোচ্চ আদালত খালাসের রায় বাতিল করে হাইকোর্টে নতুন করে শুনানির নির্দেশ দেয়।