মনীষী

পথিকৃত্ সাংবাদিক সাহিত্যিক

 

বাঙালি মুসলিম সমাজের পথিকৃত্ সাংবাদিকদের অন্যতম উজ্জ্বল এক ব্যক্তিত্ব আবুল মনসুর আহমদ। সাংবাদিকতা, রাজনীতি, সাহিত্যচর্চা—সব ক্ষেত্রেই সফল। বিগত বিংশ শতাব্দীর চল্লিশ, পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে ধর্মনিরপেক্ষতার সপক্ষে অবিশ্রাম প্রচারণা চালিয়েছিলেন। ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, গোঁড়ামি, কবর পূজা, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে নিরন্তর সংগ্রাম করে গেছেন। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে ইত্তেহাদ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ব্যঙ্গরচনার জন্যে তিনি  বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তাঁর ‘আয়না’, ‘ফুড কনফারেন্স’ বিখ্যাত গ্রন্থ। এছাড়া ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত একটি বই।

আবুল মনসুর আহমদের জন্ম ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা গ্রামে, ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দের ৩ সেপ্টেম্বর। ইন্তেকাল করেন ঢাকায়, ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দের ১৮ মার্চ। বিশিষ্ট আইনজীবী ছিলেন তিনি। কলকাতায় পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে তিনি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় কাজ করেন। এর মধ্যে রয়েছে ইত্তেহাদ, ছোলতান, মোহাম্মদী, কৃষক, নবযুগ। ইত্তেহাদ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন তিনি।

নেতাজী সুভাষ বসুর কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রথম দিকে। পরে মুসলিম লীগ করেন। সম্পৃক্ত হন পাকিস্তান আন্দোলনের সঙ্গে। পঞ্চাশের দশকে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী কর্মসূচি ২১ দফার অন্যতম প্রণেতা ছিলেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের টিকিটে পূর্ববঙ্গ পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ৫৪ সালে ফজলুল হক মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন। পরে শিক্ষামন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রীও হয়েছিলেন। ৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনামলে কারাভোগ করেন। আওয়ামী মুসলিম লীগ (বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ)-এর প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের অন্যতম একজন তিনি। ১৯৫৩-৫৮ সময়কালে তিনি আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর লেখা অন্যান্য গ্রন্থ : গালিভারের সফরনামা, আত্মকথা, শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু, আবেহায়াত, সত্য মিথ্যা, হুযুর কেবলা, বাংলাদেশের কালচার, জীবনক্ষুধা ইত্যাদি। সাহিত্যচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা স্বাধীনতা পদক (১৯৭৯), বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬০) ইত্যাদি। বাংলা একাডেমি থেকে আবুল মনসুর আহমদ রচনাবলী প্রকাশিত হয়েছে জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের সম্পাদনায়। বাংলা একাডেমি এই বরেণ্য ব্যক্তিত্বের জীবনীগ্রন্থও বের করেছে। জীবনী লিখেছেন ড. নূরুল আমিন।

হাসান হাফিজ