কাঠালিয়ায় সংযোগ সড়ক না করেই বিল উত্তোলন

দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ

মো. শফিউল ইসলাম সৈকত, ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ। ঠিকাদার বিল উত্তোলন করে নিয়ে গেছে ব্রিজের সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করেই। এতে দুর্ভোগে পড়েছে পাঁচ গ্রামের মানুষ। কিন্তু ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি আজ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা। শুধু জামানতের টাকাই পড়ে আছে কর্তৃপক্ষের কাছে। কাঠালিয়া উপজেলার তারাবুনিয়া বাজার সংলগ্ন বাকা খালের ওপর ব্রিজের সংযোগ সড়ক এটি। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে জনস্বার্থে সরকার নিরলস প্রচেষ্টা করলেও এই ব্রিজটির ক্ষেত্রে ঠিকাদারের কারণে তার ব্যতিক্রম ঘটেছে।

৫ বছর সময় নিয়ে ব্রিজ নির্মাণ করলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করেই দুই পাশে বালু ফেলে চলে গেছে ঠিকাদার। এতে একদিকে নির্মাণ কাজ শেষ হলেও ব্রিজটি পার হয়ে আটটি রুটের যানবাহন ও লোকজন চলাচল করতে পারছে না। অন্যদিকে সংযোগ সড়কে ফেলে রাখা বালু বাতাসে উড়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যেই ঠিকাদারকে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে এলজিইডি চিঠি দিলেও তিনি তাতে কর্ণপাত করছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

তারাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা আব্দুর রব বলেন, সরকার এত টাকা খরচ করে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে ব্রিজটি নির্মাণ করলেও আমরা এর সুফল পাচ্ছি না। শুরু থেকেই ঠিকাদার ব্রিজের নির্মাণ কাজে টালবাহানা করে সময়ক্ষেপণ করেছে। এখন আবার সংযোগ সড়ক না করে বালু ফেলে রাখা হয়েছে। এতে এই ব্রিজ পাড় হয়ে কৈখালী, কাঠালিয়া, ভাণ্ডারিয়া, রাজাপুর, ঝালকাঠি, আমুয়া, মরিচবুনিয়া ও মঠবাড়িয়ায় চলাচল বন্ধ রয়েছে।

একই এলাকার বাসিন্দা ৭০ বছরের বৃদ্ধ মকবুল সিকদার বলেন, ব্রিজটি নির্মাণের পর ঠিকাদারের খামখেয়ালির কারণে আমরা দীর্ঘ দিন সাঁকো দিয়ে ব্রিজে উঠে চলাচল করেছি। এরপর অভিযোগ পেয়ে কর্তৃপক্ষের চাপে ঠিকাদার সম্প্রতি বালু ফেলে চলে যায়। কিন্তু বালু নিচে দেবে যাওয়ায় পথচারীদের চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। এখান থেকে যাওয়ার সময় পার্শ্ববর্তী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দুই পুলিশ সদস্য পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে।

ব্রিজ সংলগ্ন তারাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনির সিকদার বলেন, ব্রিজটির দু’পাড়ে তারাবুনিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, বাজার, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মাদ্রাসার শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়া করতে হয়। এ ছাড়াও পাঁচ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করতে মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছে।

ঠিকাদার রাজাপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ সভাপতি আনোয়ার হোসেন মজিবর মৃধা বলেন, আমি ব্রিজের ঠিকাদার হলেও সংযোগ সড়কের ঠিকাদার নই। আমার ওপর জোরপূর্বক সংযোগ সড়কের কাজ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মাটি দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কথা থাকলেও মাটি না পাওয়ায় বালু ফেলে দিয়েছি। সংযোগ সড়কের জন্য বরাদ্দ টাকার পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি বলেন এই মুহূর্তে মনে নেই।

পাটিখালঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান শিশির দাস বলেন, আমি ২০১৭ সালে ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর পুরনো সড়কের মাটি দিয়ে ঠিকাদারকে সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরামর্শ দিয়েছি। এরপরে আরও মাটির প্রয়োজন হলে আমি তা ব্যবস্থা করে দিতে পারতাম। কিন্তু ঠিকাদার আমার পরামর্শ বা প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে এ হাল করেছে।

ঝালকাঠি এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন বলেন, টেন্ডারে ব্রিজের সঙ্গেই সংযোগ সড়কের জন্য ৩২ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। তবে ব্রিজের কাজ শেষ হলেও অ্যাপ্রোচের কাজ না করায় ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সে অ্যাপ্রোচের কাজ করতেই চায়নি। তাই তার জামানতের ১০ লাখ টাকা আমাদের কাছে জমা আছে। তবে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় অন্য প্রজেক্টের বরাদ্দ থেকে ব্যালেন্স করে অ্যাপ্রোচের কাজ জুন মাসের মধ্যে শেষ করার কথা জানান নির্বাহী প্রকৌশলী।