ফারুক আহমেদ, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
নানা রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত অসহায় বন্দি শিশুরা। খোলা আকাশের নিচে বের হতে পারে না নিরাপত্তার অজুহাতে, বাড়ি ফেরা সকলের ছিল অজানা। ঠিকমত খাবার জোটে না, নেই কোনো চিকিত্সা সেবা। ছিল না সীমানা প্রাচীর। এ অবস্থায় বন্দি প্রায় দু’শ’ শিশুর আশ্রয় হয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিচালিত ধলা ভবঘুরে আশ্রমে। এমন সব কষ্টের প্রেক্ষিতে ধলা আশ্রমের অসহায় বন্দিদের পাশে দাঁড়িয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ উপজেলা প্রশাসন ও সমাজের দানশীল ব্যক্তিরা। ইতোমধ্যে তাদের খাবারের মান বৃদ্ধি, চিকিত্সা সেবা নিশ্চিতকরণ, চিত্ত বিনোদন, খেলাধুলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সীমানা প্রাচীরের জন্যও বরাদ্দ করা হয়েছে অর্থ। ফলে বদলে যেতে শুরু করেছে আশ্রয় কেন্দ্রের চেহারা।
জানা গেছে, ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধলায় ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ভবঘুরে আশ্রয় কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ আশ্রয় কেন্দ্রটিতে শিশুদের আনন্দ বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এতিম বন্দি শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে পাশে দাঁড়িয়েছে কর্মকর্তারা। ময়মনসিংহ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রাজ আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জাকির, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাছানসহ স্থানীয় বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ বাদল ধলা আশ্রম পরিদর্শন করে তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ব্যবস্থা করেন। সে অনুযায়ী বন্দি শিশুদের ভালো খাবার ব্যবস্থা করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ প্রদানসহ তদারকি করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি দিনব্যাপী সকল শিশুর জন্য বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারের ব্যবস্থা করেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জাকির।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাছান জানান, বন্দি শিশুদের সীমানা প্রাচীর না থাকায় বের করা সম্ভব হতো না। তাই আমরা বিশেষ ফান্ড গঠন করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ হাতে নিয়েছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জাকির বলেন, এ আশ্রয় কেন্দ্রে শিশুরা বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত, কেউবা মাদকাসক্ত, আবার কেউ কেউ ভবঘুরে। এসব শিশুকে নিয়মিত চিকিত্সা, খাবার, খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা এসব শিশুর মধ্যে যাদের পরিচয় পাওয়া যায় তাদের অভিভাবকের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করবো।