বাংলা একাডেমিতে আলোচনা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা একাডেমি শিশু-কিশোরদের জন্য আয়োজন করেছিল ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শোনো’ অনুষ্ঠান। একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের বঙ্গবন্ধুর গল্প শোনান কবি কাজী রোজী, শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন, কবি মিনার মনসুর, ডা. আব্দুন নূর তুষার, ডা. নুজহাত চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী।
এদিকে বিকালে একাডেমির নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কথাসাহিত্যিক রাহাত খান এবং অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, দেশের মানুষের বন্দিত্ব-মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু জীবনের এক বিশাল অংশ কাটিয়েছেন কারাগারে। আত্মশক্তিতে বিশ্বাসী হয়ে ধাপে ধাপে অগ্রসরমান এই নেতা দেশকে সবসময় ব্যক্তি ও পরিবারের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন।
রাহাত খান বলেন, বঙ্গবন্ধুর হূদয়ের মাপ ছিল ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল। শৈশব থেকেই সাহস, সংকল্প ও দেশপ্রেমের অপর নাম ছিল— শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি তৃণমূল থেকে তাঁর শক্তি সঞ্চয় করেছেন এবং ক্রমশ সাধারণ মানুষের দাবি-দাওয়াকে পরিণত করেছেন রাজনীতির কেন্দ্রীয় বিষয়ে। বঙ্গবন্ধুর জন্যই আজ বাংলাদেশ সর্বক্ষেত্রে বিশ্বসভায় এক বিস্ময়ের নাম।
অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু রাজনীতির দিকপাল ছিলেন না, একই সঙ্গে অর্থনীতি, সমাজনীতি, সমরনীতি— সবক্ষেত্রেই তাঁর দূরদর্শিতা ছিল অসামান্য। তিনি তাঁর ব্যক্তিত্ব ও অর্জনের মধ্য দিয়ে জাতীয় থেকে আন্তর্জাতিক নেতায় পরিণত হয়েছেন।
কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে এই ভূখণ্ডের মানুষ বাংলাদেশ নামটির সঙ্গে পরিচিত হতে পারত না। বঙ্গবন্ধু বাঙালিকে শুধু একটি স্বাধীন ভূখণ্ড উপহার দেননি বরং একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় মূলনীতির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ গঠনের অন্তহীন প্রেরণা দিয়ে গেছেন।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী সুবীর নন্দী, আলম আরা মিনু এবং অনন্যা আচার্য্য।
‘শিল্পের আলোয় বঙ্গবন্ধু’
জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমি দিনব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজন করে। ‘জাতির পতাকা হাতে স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমরাই মুজিব’ স্লোগানে দেশব্যাপী গবেষণাভিত্তিক শিল্পযাত্রা ‘শিল্পের আলোয় বঙ্গবন্ধু’র জন্মশতবর্ষ শীর্ষক অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। গতকাল শত শত শিশুর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জাতীয় চিত্রশালা প্লাজায় শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার মধ্যদিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শুরু হয়। বিকালে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। বিকালে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে প্রদর্শনী শুরু হয়। শিশুতোষ চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে জামসেদুর রহমান সজীবের ‘বাড়ি ফেরা’, রহমান লেলিনের ‘মন ফড়িং’, তারেক আজিজ নিশকের ‘সমান্তরাল যাত্রা’, মো. তাওকীর ইসলামের আয়না, লুসি তৃপ্তি গোমেজের ‘ডাকঘর’ এবং আবদুল্লাহ আল হারুনের বঙ্গবন্ধুর উপর নির্মিত চলচ্চিত্র ‘আমাদের বঙ্গবন্ধু’।
গতকাল একাডেমির গ্রন্থাগারে বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধন করেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। বর্তমানে এখানে তিনশত বই স্থান পেয়েছে। পরে জাতীয় চিত্রশালা প্লাজায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। শিশুদের উদ্দেশে উত্সাহমূলক বক্তব্য রাখেন মহাপরিচালক। এরপর পিপলস লিটল থিয়েটারের নাটক ‘মুজিব মানে মুক্তি’ পরিবেশিত হয়। সম্মেলক গান পরিবেশন করে মাস্টার মাইন্ড স্কুল, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের রমনা শাখা, বীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল, উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, হলিক্রস কলেজ, মেপললিফ ইন্টা. স্কুল, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ এবং শিল্পকলা একাডেমির সংগীত দলের শিক্ষার্থীবৃন্দ। নৃত্য পরিবেশন করে দীব্য নৃত্যকলা কেন্দ্র ও একাডেমির নৃত্যদল। একাডেমির শিশু অ্যাক্রোবেটিক দলের পরিবেশনায় অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। একক গান পরিবেশন করে শিশুশিল্পী সুরাইয়া আক্তার সুবর্ণা, রাইয়ান বিনতে হাবিব, ওয়াজিউর রহমান, সৃজনী সরকার জিতু ও গুনগুন।