শিশু-কিশোরদের কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ নিজেদের কণ্ঠে ধারণ করে অন্তর্নিহিত তাত্পর্যকে ফুটিয়ে তুলেছে শিশু-কিশোররা। গতকাল রবিবার রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে ‘মুক্তির গান’ আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর ৯৯তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের নিয়ে ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ উপস্থাপনের পুরস্কার বিতরণী ও ‘বঙ্গবন্ধু বর্ষ’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে শিশু-কিশোরদের কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে মুগ্ধ উপস্থিত অতিথি ও দর্শনার্থীরা।

আয়োজকরা জানান, ৭ই মার্চের ভাষণকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দেবার জন্য ‘স্বাধীনতা পেয়েছি, মুক্তি আসবেই’-এ স্লোগানকে সামনে রেখে সারাদেশের শিশু-কিশোরদের মধ্যে একযোগে প্রতিযোগিতা শুরু করে ‘মুক্তির গান’। এই আয়োজনে ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে নিজেদের কণ্ঠে ধারণ করেছে। সারা দেশ থেকে প্রায় সাড়ে আট হাজারের ওপর ভিডিও চিত্র আয়োজকদের কাছে এসে জমা পড়ে। এর মধ্য থেকে শীর্ষ ৫০ প্রতিযোগীর ভিডিও কোলাজ প্রদর্শন করা হয়। শিশু—কিশোর প্রতিযোগিতার সেরা সাত প্রতিযোগী ৭ই মার্চের ভাষণ নিয়ে বিশেষ প্রযোজনা ‘সেই অবিনাশী উচ্চারণ’ পরিবেশন করেন। সেরা সাত প্রতিযোগীকে পুরস্কার এবং শীর্ষ ৫০ প্রতিযোগীকে সনদ প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এছাড়া অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সাদেক খান, শহীদ কন্যা শাওন মাহমুদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম এবং তার স্ত্রী লায়লা হাসান, সুচিন্তা ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ আরাফাত প্রমুখ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, শিশু-কিশোরদের মুখে উচ্চারিত ৭ই মার্চের ভাষণ শুনে মনে হয়েছে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর কথা ভুলবে না। বঙ্গবন্ধুকে হূদয়ে ধারণ করে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এগিয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ আমাদের হূদয়ের ভাষণ। আমরা সেই ভাষণের মাধ্যমে উজ্জীবিত হয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। বঙ্গবন্ধু যা স্বপ্ন দেখতেন, তিনি হূদয়ে যা ধারণ করতেন, বিশ্বাস করতেন সেটাই ১৮ মিনিটের সেই ভাষণে উচ্চারণ করেছেন।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসান ইমাম বলেন, আজকে যদি জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকতেন তাহলে তিনি বুঝতে পারতেন, তিনি কতো বড় অন্যায় করেছেন মানুষের মন থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুছে দেয়ার চেষ্টা করে। সেই চেষ্টা যে ব্যর্থ হয়েছে তা প্রমাণ হয়েছে।

মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, ঘাতকেরা শত চেষ্টা করেও বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলতে পারেনি। কিন্তু এ দেশ, এ পৃথিবী যতদিন থাকবে, বাংলাদেশ যতদিন রাজনৈতিকভাবে এর অস্তিত্ব টিকে থাকবে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলা অসম্ভব।