জয়পুরহাটের কালাইয়ে উপজেলা নির্বাচনোত্তর সংঘর্ষে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২ কর্মী নিহত হয়েছে। আওয়ামী লীগ মনোনীত নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও একই পদে দলের অপর মনোনয়ন প্রত্যাশীর সমর্থকদের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত হয়েছে অন্তত ছয়জন। গত শনিবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের মোসলেমগঞ্জ বাজারে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহতরা হলেন:উপজেলার পুনট মোন্না পাড়ার আব্দুস সামাদ সরদারের ছেলে আফতাব সরকার (৫৫) এবং পুনট মাইশ্বা পাড়ার শ্রী চারু মোহন্তের ছেলে রতন মোহন্ত (৪৮)। আহতরা হলেন: উপজেলার দেওগ্রাম গ্রামের রানা, মান্দা গ্রামের আবু মুসা, দুধাইল-নয়াপাড়া গ্রামের বাইজিদ, জগডুম্বর গ্রামের মহসিন, দুধাইল-নয়াপাড়া গ্রামের ছোবাহান ও পুনট-মধ্যপাড়া গ্রামের নাছির সরদার।
জানা গেছে, গত ১০ মার্চ কালিয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও মাত্রাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ ন ম শওকত হাবিব তালুকদার লজিক। পাশের উদয়পুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলী দাদা সমর্থন করেছিলেন লজিককে। কিন্তু নির্বাচনে কালাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিনফুজুর রহমান মিলন এবং নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হোন। এরপর থেকে ওয়াজেদ আলী দাদার নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিলনের নেতাকর্মীদের বাগবিতণ্ডা চলে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে মোসলেমগঞ্জ বাজারে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এসময় দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে ৮ জন গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১১৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের কালাই, জয়পুরহাট ও বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে হাসপাতালে ২ জনের মৃত্যু হয়। নিহতরা নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলন গ্রুপের সক্রিয় সমর্থক বলে জানা গেছে।
গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন নিহতদের স্বজনরা। নিহত আফতাব সরকারের ছেলে গোলাম রব্বানি বলেন, ‘উদয়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলী দাদা সমর্থিত নেতা-কর্মীরা আমার বাবাকে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।’
উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলন বলেন, উদয়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের নেতা-কর্মীরা আমার সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ওয়াজেদ আলী দাদা বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলনসহ তার সমর্থিত প্রায় তিনশ নেতাকর্মী মোসলেমগঞ্জ বাজারে আমার কর্মীদের মারধর করে। তারা বাজারের প্রায় ১২টি দোকান ভাঙচুর করলে উদয়পুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ তাদের ধাওয়া করে।
সংঘর্ষে ২ জনের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে কালাই থানার ওসি আব্দুল লতিফ খান বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে মিলন ও ওয়াজেদ আলীর মাঝে দ্বন্দ্ব ছিল। এর জের ধরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। মোসলেমগঞ্জ বাজারের পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।
ঝিনাইদহে দুই ইউপি চেয়ারম্যান সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি হামলা
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হাটগোপালপুরে পাল্টাপাল্টি হামলায় ২০টি বাড়িঘর, দোকান পাট ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার রাতে ও রবিবার সকালে এ সহিংস ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৪-৫ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ৭ জনকে আটক করেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঝিনাইদহ সদর সার্কেল) কনক কুমার দাস জানান, উপজেলার পদ্মকর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ নিজামূল গনি লিটু ও সাবেক চেয়ারম্যান বিকাশ বিশ্বাসের সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শত্রুতা চলে আসছে। সম্প্রতি হাটের ইজারা নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে চরম শত্রুতা সৃষ্টি হয়। তার জের ধরে শনিবার রাতে বিকাশ বিশ্বাস সমর্থকরা হাটগোপালপুর বাজারে ৭-৮টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এসময় একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগও করা হয়। তার পাল্টা হিসাবে রবিবার ভোরে লিটু সমর্থকরা বিকাশ বিশ্বাসের সমর্থকদের অন্তত ১৫ টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।