কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় সরকারী স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মজিবর রহমান ও তার ছোটভাই মিজানুর রহমান হত্যার ঘটনায় আসামী সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গিয়েছে।
নাতনীকে ইভ টিজিং ঘটনায় বাঁধা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে নালিশ দেয়ার পর পুলিশের হাতে উত্যক্তকারী যুবক আরিফ আটক হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে থানা থেকে ছাড়া পেয়েই হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠে ওই বখাটে যুবক।
পুলিশ জানায় ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মজিবর রহমানের সপ্তম শ্রেনীতে পড়–ুয়া নাতনি শ্রাবণী আক্তার তৃষাকে উত্যক্ত করার ঘটনায় বাঁধা দেয়ায় স্থানীয় বখাটে যুবক আরিফুল ইসলাম আরিফ বেপরোয়া ও চরম ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। পরবর্তীতে উপায় না পেয়ে মজিবর রহমান তার নাতনীর নিরাপত্তা ও স্কুলে পড়াশুনা চালিয়ে নেয়ার ¯^ার্থে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ভেড়ামারা থানার পুলিশ আরিফকে আটক করে নিয়ে আসে।
এরপর স্থানীয়দের চাপে ঘটনাটি নিয়ে সমঝোতা করতে বাধ্য হন মজিবর রহমান। সমঝোতার পর থানা থেকে পুলিশ ছেড়ে দেয় বখাটে আরিফকে। আর থানা থেকে ছাড়া পেয়েই বখাটে আরিফ প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে মেতে উঠে হত্যাযজ্ঞে। নৃশংস এই জোড়া খুনের ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এছাড়া নিহতের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর প্রশ্ন, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের নির্লিপ্ততাই কি এই জোড়া খুনের কারণ নয়? উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অভিযোগ দেয়ার পর আটকৃকত বখাটে আরিফকে কেনই বা থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হলো?
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শান্তি মনি চাকমা জানান, আমি অভিযোগ পেয়ে ওই যুবককে আটকের জন্য পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করি। পুলিশ ওই যুবককে আটক করে আনার পর থানায় দুপক্ষের সমঝোতার পর ওই যুবক ছাড়া পেয়ে যায়।
সরকারী স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে অবসর গ্রহনের পর মজিবর রহমান ফকিরাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, স্থানীয় মসজিদ ও গোরস্থান কমিটির সভাপতিসহ সামাজিক নানা জনহিতকর কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আর ছোট ভাই মিজানুর রহমান কৃষি কাজ করতেন।
ভেড়ামারা থানার ওসি নূর ইসলাম খন্দকার জানান, নৃশংস এই জোড়া খুনের ঘটনায় নিহতরে ছেলে হাফিজ বাদী হয়ে মঙ্গলবার ভেড়ামারা থানায় বখাটে আরিফুল ইসলাম আরিফসহ ৮ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই আরিফ ও তার পরিবারের লোকজনসহ অন্য আসামীরা পলাতক রয়েছে। আসমীদের ধরতে র্যাব-পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি।
উল্লেখ্য, ২৫ ফেব্রæয়ারী গত সোমবার রাতে এশার নামাজ আদায় শেষে মজিবর ও মিজানুর দুই ভাই বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে আরিফের বাড়ির সামনে পৌঁছানো মাত্রই তাদের ওপর হামলা চালায় একদল দূর্বৃত্ত। এসময় দুর্বৃত্তরা মজিবর রহমান ও মিজানুর রহমানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। এতে বড়ভাই মজিবর রহমান ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং ছোটভাই ৩৬ ঘন্টা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে চলে যান না ফেরার দেশে।