অ্যাপ স্টোরের সেবা পাচ্ছে না ইরানের সাড়ে তিন লাখ ব্যবহারকারী

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

 

ইরানে আইওএস  সিস্টেম ব্যবহারকারীরা গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে অ্যাপল অ্যাপ স্টোর ছাড়া অন্য কোথাও থেকে নামানো অনলাইন ব্যাংক সেবা, রাইড শেয়ারিং ও খাদ্য সরবরাহসহ বেশকিছু অ্যাপে প্রবেশ করতে পারছে না। আর সেই সূত্র ধরেই দেশটিতে পাঁচ দিনে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ আইফোন বন্ধ হয়ে গেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী মোহাম্মদ জাবেদ আজারি জাহরোমি বলেছেন, ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০ হাজার আইফোন বন্ধ হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে অ্যাপল অ্যাপ স্টোর কপিরাইট ও প্রাইভেসি পলিসি হিসেবে ইরানে এন্টারপ্রাইজভিত্তিক পোগ্রামগুলো বন্ধ করে দেয় অ্যাপল। এসব অ্যাপের মধ্যে ইরানি অনলাইন ব্যাংকিং সেবা,অনলাইন পেমেন্ট, রাইড শেয়ারিং এবং ফুড ডেলিভারির মত সেবা অন্তর্ভুক্ত।

আজারি জাহরোমি বলেন, ইরানের কমিউনিকেশন রেগুলেটরি অথরিটি কর্তৃক প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অ্যাপলের নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে ইরানে প্রতিদিন ৭ হাজার আইফোন নিবন্ধিত হয়েছে।

এদিকে এই সাড়ে ৩ লাখ আইফোন বন্ধের বিষয় ইরানে অ্যাপের উন্নয়নের ইঙ্গিত প্রকাশ করে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।অন্যদিকে এর মাধ্যমে ইরানে অ্যাপলের বাজার হারানোর বিষয়টিও উঠে এসেছে।

ইরানের তথ্য প্রযুক্তি অধিদপ্তরের প্রধান আমির নাজেমি তিনটি বিষয়কে ইরানের সাম্প্রতিক এই আইওএস  অ্যাপ অপসারণের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ইরানের উপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা,এন্টারপ্রাইজ ডেভলপার সার্টিফিকেটের বিষয়ে অ্যাপলের নীতি পরিবর্তন এবং সম্প্রতি প্রকাশিত ইরানি স্টার্টঅ্যাপের তালিকা যা এন্টারপ্রাইজ ডেভলপার সার্টিফিকেট ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বিধায় যুক্তরাষ্ট্রের এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা। গত ৩ মার্চ ফিনানি্সয়াল ট্রিবিউনের সম্পাদকীয়তে তিনি এসব উল্লেখ করেন।

ধারণা কর হচ্ছে, ইসলামী বিপ্লবের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত যুক্তরাজ্যভিত্তিক টিভি চ্যানেল মানোতোর উপস্থাপক নরিমান ঘরিবের একটি লেখা ইরানে অ্যাপল এন্টারপ্রাইজ পোগ্রাম বন্ধের অন্যতম কারণ।

মিডিয়াম ডট কমে প্রকাশিত লেখায় ঘরিব আইওএস  ডেভলপার এন্টারপ্রাইজ সার্টিফিকেট ব্যবহার করে ইরানি ব্যাংকের একটি তালিকা প্রকাশ করে।

ইরানে আইফোন বিক্রির নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নিয়মিত চোরাচালানের মাধ্যমে ইরানে আইফোন ঢুকছে। ফলে ইরানে আইফোনের অ্যাপ স্টোরও নেই, তবে ইরানি ডেভলপাররা আইফোনের জন্য নিজস্বভাবে বেশকিছু অ্যাপ স্টোর তৈরি করেছে।

অ্যাপল ইনসধাইডারের মতে,যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পর ২০১৭ সালে ইরানের ডেভলপার দ্বারা তৈরি বেশকিছু অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছিল। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে অ্যাপল ইরানে সকল প্রকার হার্ডওয়্যার ও সফ্টওয়্যার বিক্রি নিষিদ্ধ করে।

এই নিষেধাজ্ঞা,অ্যাপল ইনসাইডার ও অ্যাপলের ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ইরানভিত্তিক শিরোনাম সীমাবদ্ধ করার বর্ধিত প্রচেষ্টা বলে মনে করা হয়।

 

সূত্র :তেহরান টাইমস