‘রেজাউল করিমের হত্যাকারীদের শিগগিরই সামনে আনা হবে’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকীর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের খুব শিগগিরই সামনে আনা হবে। আমরা খুব কাছাকাছি এসে গেছি। আপনাদের কাছে বিশেষ অনুরোধ- আপনারা শিক্ষক রেজাউল হত্যার বিচার দাবির আন্দোলন পরিত্যাগ করে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যহত রাখুন। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। অবশ্যই এ হত্যাকারীদের বিচার হবে।
 
শনিবার দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীর হত্যকাণ্ডের প্রতিবাদ ও দোষীদের শাস্তি দাবিতে আয়োজিত শিক্ষক-ছাত্র-সুধী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একাত্তরের পরাজিত সৈনিকরা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিচ্ছেন। এই হত্যাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আমরা খুব শিগগিরই অপরাধীদের খুঁজে বের করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। তবে তদন্তের স্বার্থে এখন কিছু বলবো না।
IMG0
রেজাউল করিম সিদ্দিকীর মেয়ে শতভিকে উদ্দেশ্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে প্রায়ই নিহত পরিবারের মুখোমুখি হতে হয়। আপনি (শতভি) যেভাবে আবেদন-নিবেদন করলেন, আপনাকে অভয় দেয়ার ভাষা আমার নেই। শুধু এটুকুই বলতে চাই- আপনি অবশ্যই আপনার বাবা হত্যার বিচার দেখতে পাবেন। আপনার সামনে খুনিদের বের করে শাস্তি নিশ্চিত করবই।’
 
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ্ আজমের সঞ্চালনায় শিক্ষক হত্যার বিচার দাবির আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে আরো বক্তব্য দেন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মিজানউদ্দিন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাকসুদ কামাল প্রমুখ। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের পক্ষ থেকে বিভাগের সভাপতি ড. এএফএম মাসউদ আখতার ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নিহত শিক্ষকে মেয়ে রিজওয়ানা হাসিন শতভি বক্তব্য দেন। এর আগে সমাবেশের শুরুতে নিহত শিক্ষকের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
IMG1
 
সমাবেশে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় পরিবার হল শিক্ষা পরিবার। সেই পরিবারের অভিভাবক শিক্ষক হত্যার বিচার না হলে শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব নয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশের শিক্ষা পরিবার অত্যন্ত মর্মাহত। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে হলে আগে শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
 
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, আপনাদের ভিত হওয়া চলবে না। আপনারা ভিত হলে তারা সুযোগ পাবে, তারা বিজয়ী হবে। সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্ষান্ত হবো না।
 
সমাবেশে পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক বলেন, আমরা তদন্তে স্বার্থে অনেক কিছু বলতে পারি না। পুলিশ নীরব নেই, তারা কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশের প্রতি আপনাদের আস্থা রাখতে হবে। আমাদের তদন্তে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। আপনারা শিগগিরই তা দেখতে পাবেন।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, দীর্ঘকাল ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে চক্রান্ত হয়ে আসছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংস করার সব ধরনের কর্মপ্রয়াস নেয়া হয়েছে। এই প্রয়াসের সঙ্গে বাইরের শক্তির সঙ্গে ভেতরের শক্তিও জড়িত।
 
IMG2
 
অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীর মেয়ে রিজওয়ানা হাসিন শতভি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজেও পিতৃহারা, তাই আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি- আমি তার কাছ থেকে বিচার পাবো। আমি চাই, সব অপরাধীদের সত্যিকার অর্থে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।’
 
সমাবেশে রাবি শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে প্রফেসর রেজাউল করিম সিদ্দিকীর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়।
 
উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল সকালে রাজশাহী মহানগরীর শালবাগান এলাকায় নিজ বাড়ির অদুরে অধ্যাপক এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।