যশোরে গ্রামীণ শিল্প মেলায় লটারি নামে ‘জুয়া’ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সাত বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। শনিবার বিকেলে ওয়ার্কার্স পার্টি জেলা কার্যালয়ে এক সভায় নেতারা এ দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে গত ২৮ এপ্রিল শহরের প্রাণকেন্দ্র টাউন হল মাঠে প্রেসক্লাব যশোরের আয়োজনে শুরু হয়েছে মাসব্যাপি গ্রামীণ শিল্প মেলা। অনুমোদন না থাকলেও মেলায় বেআইনিভাবে প্রতিদিন চলছে লটারির টিকিট বাণিজ্য। মোটরসাইকেল, টিভি, ফ্রিজ, বাইসাইকেলসহ বিভিন্ন রকমের পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে চলছে জমজমাট লটারি জুয়ার আসর। শহরের টাউন হল ময়দান থেকে শতাধিক ইজিবাইকে মাইক লাগিয়ে শহরের অলিগলি ও উপজেলার পাড়া মহল্লায় প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ২০ টাকা মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন ২০-২৫ লাখ টাকার লটারির টিকিট বাণিজ্য হচ্ছে। আর বাহারি সব পুরস্কারের লোভে লটারি নামক জুয়ায় হুমড়ি খেয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের নাকের ডগায় বেআইনিভাবে লটারি নামক জুয়া খেলা হলেও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। লটারি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন যশোরের ৭টি বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শনিবার বিকেলে জেলা ওয়ার্কার্স পার্টি কার্যালয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি জেলা সভাপতি ইকবাল কবির জাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক অশোক রায়, সিপিবির জেলা সভাপতি আবুল হোসেন, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক হাসিনুর রহমান, কমিউনিস্ট লীগের কামাল হোসেন পলাশ, বাসদ সমন্বয়ক শাহজাহান আলী, ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ভিটু ও ন্যাপ সভাপতি মাস্টার নূরজালাল অবিলম্বে লটারির নামে জুয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
নেতারা বলেন, গ্রামীণ শিল্পমেলার নামে লটারির মাধ্যমে গরিব মানুষের পকেট তসরুপ করা হচ্ছে। লটারির নামে একটি মহল কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকা যশোরের মানুষ প্রচন্ড বিক্ষুব্ধ।
এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ সোহেল হাসান ইত্তেফাককে জানান, শুধুমাত্র মেলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। হাউজি, লটারি কিংবা জুয়া খেলার অনুমতি দেয়া হয়নি। লটারির বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। জেলা প্রশাসক দেশের বাইরে আছেন। তিনি দেশে ফিরলেই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।