নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বড়তলী গ্রামে নিজ ঘরে গৃহকর্তা ও তার স্কুল পড়ুয়া মেয়ে আগুনে পুড়ে মারা গেছে।
বিষয়টি রহস্যজনক বলে দাবি করছে এলাকাবাসী।
জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নিজ ঘরে ইলেকট্রিশিয়ান সবুজ মিয়া (৩৭) ও তার মেয়ে মোহনগঞ্জ এভারগ্রিন স্কুলের নার্সারী ক্লাসের ছাত্রী নাভী (৬) নামে এক শিক্ষার্থী অগ্নিদগ্ধ হয়। স্বামী ও সন্তানকে বাঁচাবার চেষ্টাকালে সবুজের স্ত্রী লিপা (২৫) দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ওই রাতেই বাবা-মেয়েকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মধ্যরাতে শিশু নাভীর মৃত্যু হয়। বুধবার দুপুরে সবুজকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করানো হয়। ছয়দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে সোমবার বিকালে তার মৃত্যু হয়।
সবুজ মিয়ার স্ত্রী লিপা আক্তার জানান, ওই রাতে বিদ্যুৎ ছিল না। মোবাইলের টর্চ লাইটের আলোতে মেয়েকে মেঝেতে খাবার দিয়ে তিনি পাশে বসে ছিলেন। এ সময় বাহির থেকে জানালা দিয়ে তাদের উপর কে বা কারা আগুন নিক্ষেপ করে। এতে বিকট শব্দ হয়। সবুজ মিয়া তখন ঘরেই ছিলেন। মেয়েকে বাচাঁতে এগিয়ে এসে তিনিও দগ্ধ হন। এক এক করে বাবা, মা ও মেয়ে তিনজনই দগ্ধ হয়।
বড়তলী বানিহারী ইউপি চেয়ারম্যান হাসিম উদ্দিন বলেন, ‘কেরোসিন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে নিশ্চিত বলা যায়। তবে কিভাবে তা হতাহতদের শরীরে লাগল তা জানা সম্ভব হয়নি। বিষয় রহস্যজনক।’
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেজবাহ উদ্দিন আহম্মেদ জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি কেরোসিন তেলের কন্টেইনার ও একটি কুপি বাতি জব্দ করা হয়েছে। বোমা নিক্ষেপের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
ওসি বলেন, ‘এখনও হতাহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’