আবজালের বাড়ি-প্লটে ক্রোকের নোটিস

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জন করা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবজাল হোসেন দম্পতির নামে থাকা বাড়ি, প্লট ও ফ্ল্যাট ক্রোক আদেশের নোটিস টানিয়ে দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ দম্পতির ২৫টি বাড়ি-প্লট ও জমি জব্দের আদেশ বাস্তবায়নে সম্পত্তিগুলোতে ক্রোক-আদেশের নোটিস টানানো হবে। এর মধ্যে গতকাল সোমবার আবজাল হোসেনের স্ত্রী রুবিনা খানম নামে থাকা রাজধানীর উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর সড়কের পাশে সাড়ে তিন কাঠা প্লটের ছয়তলা বাড়িতে প্রথম নোটিসটি লাগানো হয়। এরপর তাদের নামে উত্তরার অপর একটি বাড়ি ও দুটি প্লট এবং বাড্ডায় আরেকটি প্লটে ক্রোক-আদেশের নোটিস লাগানো হয়। দুদকের উপ-পরিচালক মোঃ তৌফিকুল ইসলাম, উপ-পরিচালক মোঃ সামছুল আলম এবং উপ-পরিচালক এ কে এম মাহবুবুর রহমানের সমন্বয়ে দুদকের একটি কমিটি ক্রোক-আদেশের বিলবোর্ড স্থাপন করেন।দুদক কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আদালতের নির্দেশে আবজাল ও তার স্ত্রীর নামে থাকা অবৈধ সম্পদের ওপর ক্রোক-আদেশের বিলবোর্ড লাগিয়ে যাচ্ছি। গতকাল উত্তরার ১৩ সম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর রোডের ৪৭ নম্বর বাড়ি ও ১৬ নম্বর রোডের ১৬ নম্বর বাড়ি, ১৫ সি সেক্টরের ২বি নম্বর রোডের ২৪ ও ২৬ নম্বর প্লট এবং বাড্ডার এনআর কমপ্লেক্সের ১১৪৬ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটে এ ধরনের বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের নামে থাকা অন্য সম্পত্তির ওপরও নোটিস লাগিয়ে দেয়া হবে।

দুদক সূত্র জানায়, আবজাল হোসেন দম্পতির ২৫টি বাড়ি ও প্লটের খোঁজ পেয়েছে দুদক। এর মধ্যে ঢাকায় ১৫টি বাড়ি ও প্লট রয়েছে তাদের। এ ছাড়া তাদের ১৫ জন নিকটাত্মীয়ের আরো সম্পদের খোঁজে মাঠে নেমেছে দুদক। ইতোমধ্যে দুদক টিম এ সব সম্পদের তথ্য চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে।

দুদক সূত্র আরো জানায়, আবজাল হোসেনের জব্দ করা সম্পদ হলো— ঢাকার মিরপুরে আড়াই কাঠা জমির ওপর টিনসেড বাড়ি, পল্লবীতে ছয় কাঠা জমি, উত্তরার ১৫/সি নম্বর সেক্টরে তিন কাঠা জমির ২৪ নম্বর প্লট, উত্তরার ১৫/সি নম্বর সেক্টরে তিন কাঠা জমির ২৬ নম্বর প্লট, খিলক্ষেতে তিন কাঠা জমি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় চার কাঠার প্লট, ফরিদপুরের কোতোয়ালী পৌরসভা মৌজা এলাকায় সাড়ে ১০ শতাংশ জমিতে দোতলা বাড়ি, একই এলাকার রঘুনন্দনপুর মৌজায় সাড়ে ১৩ শতাংশ জমি, জেলার পশ্চিম টেপাখোলা এলাকায় ১১৩ শতাংশ জমি, রাজবাড়ী জেলার বসন্তপুর ইউনিয়নে ২৩০ শতাংশ জমি, খুলনা সিটি করপোরেশনের খালিশপুর বয়রা মৌজায় সাড়ে ৫ কাঠা জমি, একই সিটি করপোরেশনের মুজগুনি আবাসিক এলাকায় সাড়ে তিন কাঠার প্লট।

আবজাল হোসেনের স্ত্রী রুবিনার নামে থাকা জব্দ সম্পত্তি হলো— উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর সড়কে তিন কাঠার প্লটে ছয়তলা বাড়ি, ঢাকার মিরপুরে একটি টিনসেড বাড়ি, পল্লবীতে আড়াই কাঠা জমি, বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পকের ৩০৬৭ নম্বর ব্লকে তিন কাঠার একটি প্লট, বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পের ৩০৬৬ নম্বর ব্লকে তিন কাঠার একটি প্লট, ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি মার্কেটে দোকান, ঢাকার সাভারে ১৫ শতাংশ জমি, ফরিদপুরের কোতোয়ালী পৌরসভার হাবেলী গোলাপপুরে দোতলা বাড়ি, একই জেলার চর পশ্চিম টেপাখোলা এলাকায় আট শতাংশ জমি, একই এলাকায় আরেকটি ৯ শতাংশ জমি, একই এলাকায় সাড়ে পাঁচ শতাংশের আরেকটি জমি।

এ ছাড়া আবজাল হোসেন ও তার স্ত্রী রুবিনা খানমের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা ও অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একটি বাড়ি রয়েছে। হুন্ডির মাধ্যমে পাঠিয়ে দুই লাখ ডলারে বাড়িটি কিনেছেন বলে দুদকের কাছে তথ্য প্রমাণ রয়েছে।