নিউজিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চের দু’টি মসজিদে জঙ্গি হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নেদারল্যান্ডসে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার ইউট্রেক্ট শহরের একটি ট্রামে বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত তিনজন নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছেন। হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পারিবারিক বিরোধে এই ঘটনা ঘটতে পারে আশংকা করা হচ্ছে। খবর বিবিসি ও ডেইলি মেইলের
স্থানীয় সময় পৌনে ১১টায় শহরের ‘২৪ অক্টোবর’ স্টেশনের কাছে গুলির ঘটনা ঘটে। ট্রামের সিসিটিভি’র ফুটেজ দেখে হামলাকারীর পরিচয় জানতে পারে পুলিশ। তার নাম গোকমেন তানিস, তুরস্কের নাগরিক। বয়স ৩৭। হামলার চার মিনিট আগে সে সিসিটিভিতে ধরা পড়ে। ঘটনার পর শহরের পশ্চিমে ট্রাম স্টেশনের কাছে একটি স্কোয়ার ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। তবে পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ঘটনার পর গাড়িতে করে পালিয়ে যায় সন্দেহভাজন বন্দুকধারী। পরে ইউট্রেক্ট পুলিশ জানায়, সন্দেহভাজন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করে নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেই সম্পর্কে কিছু জানায়নি পুলিশ। এর আগেও অপরাধের অভিযোগে গোকমেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু অপরাধ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি প্রসিকিউটর রুতগার জিউকেন।
সন্ত্রাস দমন বিষয়ক সমন্বয়কারী পিটার জ্যাপ আলবার্সবার্গ বলেছেন, এটি যে একটি সন্ত্রাসবাদী হামলা সেই সন্দেহ তারা বাদ দিচ্ছেন না। এখনো অনেক বিষয় পরিস্কার নয়। সব তথ্য জানার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জোরেশোরে কাজ করছে। তিনি আরো জানান, গুলি চালানোর ঘটনা বেশ কয়েকটি জায়গায় ঘটেছে। এদিকে প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, এটা পারিবারিক বিরোধের কারণে হতে পারে। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুও এক আত্মীয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গোকমেন ট্রামে তার আত্মীয়কে গুলি করেছিল। কিন্তু অন্যরা ওই আত্মীয়কে সহায়তা করায় গোকমেন তাদেরও গুলি করে।
প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুতে এই ঘটনাকে খুবই উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি এটিকে নেদারল্যান্ডসের ‘সভ্য এবং মুক্ত সমাজের’ ওপর হামলা বলে বর্ণনা করেন। ইউট্রেক্ট শহরের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। জানা গেছে, ৩ লাখ ৪০ হাজার বাসিন্দার শহরটি দেশের চতুর্থ বৃহত্তম শহর। এখানে বড় সিটি সেন্টার এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল নুর ও লিনউড মসজিদে প্রার্থনারত মুসল্লিদের ওপর শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী ব্রেন্টন টারান্টের নৃশংস বন্দুক হামলায় ৫০ জন নিহত এবং ৪৮ জন আহত হন।