নিষেধাজ্ঞা মানছে না হিজলার জেলেরা

হিজলা (বরিশাল):হিজলা উপজেলার ৬ষ্ঠ মত্স্য অভয়ারণ্যে নিষেধাজ্ঞার প্রচার প্রচারণা না থাকায় অবাধে চলছে ইলিশ শিকার। সরকার ১ মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত এই অভয়াশ্রমগুলোতে সকল প্রকার মাছ শিকার বন্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। দু’ মাসের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। তবে আগামী ১ জুন শুরু হবে ইলিশের ভরা মৌসুম।

এ বছর প্রথমবারের মতো যুক্ত হওয়ায় ষষ্ঠ অভয়াশ্রমে হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার কোলঘেঁষে বয়ে যাওয়া মেঘনার শাখা-প্রশাখা এখন ইলিশের অভয়াশ্রম। এটিকে দেশের ষষ্ঠ ইলিশ অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে মত্স্য অধিদপ্তর। নির্দিষ্ট এ জলসীমায় টানা দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকার মধ্য দিয়ে অভয়াশ্রমের কার্যকারিতা শুরু হলেও তা জানে না এখানকার জেলেরা।

মেঘনার হিলার অংশে প্রকাশ্যে ইলিশ শিকারের জন্য আসা জেলে বান্দের হাট এলাকার জয়নাল বলেন, এই এলাকা যে অভয়াশ্রম তা আমাদের জানা নেই। তার মতে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞাতো দূরের কথা হিজলার কোনো জেলেই এই অভয়াশ্রমের খবর জানে না। একই কথা বললেন মেঘনায় জাল ফেলে অপেক্ষায় থাকা হিজলা গৌরবদীর জেলে মজু চৌকিদার, কামাল হাওলাদার ও মেমানিয়ার শান্ত, জামালসরদাররা।

এ বিষয়ে জেলা মত্স্য কর্মকর্তা সাজদার রহমান বলেন, রিসার্স এসোসিয়েট ওই এলাকার জেলেদের নিয়ে সভা সেমিনার ও প্রচারণা চালিয়েছে। এখন জেলেরা না মানলে তো সমস্যা। আর প্রচারণায় সব জেলেকে নিয়ে আশা কষ্টসাধ্য। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, দুর্গম এলাকা হওয়ায় হয়তো এরকম হয়ে থাকতে পারে। এই উপজেলায় বর্তমানে মত্স্য কর্মকর্তা না থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। তবে দ্রুতই ওই অভয়াশ্রমের ইলিশ রক্ষায় কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মত্স্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস জানান, নতুন যুক্ত হওয়া ষষ্ঠ অভয়াশ্রমের আওতাভূক্ত এলাকার জেলে পল্লীতে সচেতনতামূলক সভা ও প্রচার চালানো হয়েছে। লিফলেট বিতরণসহ মাইকিং করা হয়েছে। কি কারণে জেলেরা মিথ্যা বলছে তা বলতে পারছি না। তিনি বলেন, এখন কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসছে। নৌ-বাহিনী যুক্ত হলে অভিযান আরো জোরদার হবে।