রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হয়নি দাবি করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচনে যারা হেরে যায়, যারা পরাজিত হতে থাকে তাদের কাছে অনেক কিছুই সন্দেহজনক মনে হয়। সন্দেহজনকভাবে তারা বিবৃতি দেয়, যা সঠিক নয়। নির্বাচনে যদি অনিয়ম হয়েই থাকে তার প্রতিশোধতো কতগুলো মানুষের জীবন নিয়ে হয় না। অনিয়মের অভিযোগ তদন্তসাপেক্ষ বিষয়। এক্ষেত্রে আইনের অনেক পদক্ষেপ আছে। আদালতে যেতে পারে, আমাদের কাছে (নির্বাচন কমিশন) আসতে পারে। বিবৃতি দিলেই নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে সেটা তাত্ক্ষণিকভাবে ধরে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই, যতক্ষণ না সেটা প্রমাণ হয়।
গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সেনানিবাসস্থ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) বাঘাইছড়ির ঘটনায় আহতদের দেখতে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। গত সোমবার সন্ধ্যায় বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্র থেকে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে নির্বাচন কর্মকর্তাসহ ৭ জন নিহত হন। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে ওইদিন দুপুরে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন জনসংহতি সমিতি (সন্তু লারমা) সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী বড় ঋষি চাকমা। তিনি যে কোনো পরিণতির দায়-দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বহন করবে বলে হুমকি দেন। তার হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, রাতের অন্ধকারে সরকারি দায়িত্ব পালন করে আসার পথে তারা কাপুরুষোচিত হামলার শিকার হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ও দুঃখজনক ঘটনা প্রকাশ করার ভাষা আমার নেই। কারা হামলা করেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারা করেছে এই মুহূর্তে বলতে পারব না। এটা তদন্তের বিষয়। পাহাড়ে নিরাপত্তা আরো জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, জোরদারতো ইতোমধ্যে আছে। দুর্গম এলাকায় কখন কিভাবে চোরাগোপ্তা হামলা হয় এটাতো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। সেখানে কর্তব্যরত বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবেই পালন করে যাচ্ছেন।
এ সময় ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এসএম মতিউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, রাঙামাটি থেকে আহত ১৮ জনকে চট্টগ্রাম সিএমএইচে আনা হয়েছে। একজন পথে মারা যান। এদের মধ্যে সাতজনকে মঙ্গলবার ভোরে উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকা সিএমএইচ পাঠানো হয়। ১০ জন চট্টগ্রামে রয়েছেন। তাদের সকলের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। এ সময় অন্যদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল মান্নান ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক উপস্থিত ছিলেন।