নারায়ণগঞ্জে ডকইয়ার্ডের নামে চলছে নদী দখল!

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নের পশ্চিম ধর্মগঞ্জ এলাকায় বুড়িগঙ্গায় নদী দখলের অভিযোগ উঠেছে। লোহার এঙ্গেল, বাঁশ ও গাছের গুঁড়ি পুঁতে ইটের খোয়া ও মাটি দিয়ে নদী ভরাট করছে একটি ডকইয়ার্ড প্রতিষ্ঠান। প্রায় দুই হাজার বর্গফুটের বেশি নদীর জায়গা ভরাট ও দখল কার্যক্রম চালাচ্ছে ‘ত্রয়ী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’ নামে ওই প্রতিষ্ঠানটি। গত দুই-তিন মাস ধরে এ কার্যক্রম চলে আসলেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই ডকইয়ার্ডে ছোট-বড় মিলিয়ে ৯টি নতুন জাহাজ তৈরি করা হচ্ছে। তৈরি জাহাজ নদীতে নামানো এবং ওঠানোর জন্য চ্যানেল তৈরি করছে শ্রমিকরা। ইতোমধ্যে বাঁশ ও গাছের গুঁড়ি পুঁতে বাঁধ তৈরি করে ইটের খোয়া ও মাটি ফেলে প্রায় চারশ বর্গফুট নদী ভরাট করা হয়েছে। পাশে অপর অংশে লোহার মোটা এঙ্গেলবার পুঁতে নদীর প্রায় ৬০০ বর্গফুট দখল করা হয়েছে। ৪/৫ জন শ্রমিক এঙ্গেলবারে প্লেট সিট ও আড়াআড়ি এঙ্গেল ঝালাই কাজ করছে। পরবর্তীতে লোহার এঙ্গেলের অংশ মাটি ভরাট করা হবে। শ্রমিকরা জানান, জাহাজ ওঠা ও নামানোর জন্য চ্যানেল তৈরির জন্য শতাধিকের বেশি লোহার বড় বড় এঙ্গেল পোঁতা হয়েছে। এর সঙ্গে সিটগুলো ঝালাই ও এঙ্গেল আড়াআড়ি ঝালাই করে দেওয়া হচ্ছে; যাতে পানি চাপে তা ভেঙে না যায়। নদী ভরাট ও দখল হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তারা বলেন, এটা মালিক ভালো বলতে পারবে। মালিকের সাথে কথা বলেন।

ত্রয়ী ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক তোফাজ্জল হোসেন তাপু বলেন, ডকইয়ার্ডের চ্যানেল তৈরির (জাহাজ ওঠা-নামানোর জন্য) লোহার এঙ্গেলবার দিয়ে নদীর তীরে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। ডকইয়ার্ড করতে গেলে সবাই এভাবেই করে। নদীতে চ্যানেল তৈরি না করলে জাহাজ নদীতে নামাবেন কীভাবে? আমরা বিআইডব্লিউটিএসহ সরকারি সব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নিয়েই ডকইয়ার্ড তৈরি করেছি।

ধর্মগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন ও জাফর আহম্মেদ বলেন, গত দুই বছর আগে বুড়িগঙ্গার তীরে বালু ভরাট করে ডকইয়ার্ড স্থাপন করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থক তোফাজ্জল হোসেন তাপু। প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকার লোকজন ভয়ে কিছু বলতে সাহস পায় না। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জেলা কমিটির সভাপতি এবি সিদ্দিক বলেন, অবিলম্বে নদী দখলকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। পরিবেশ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ অফিসের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক নয়ন মিয়া বলেন, অভিযুক্ত ত্রয়ী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানের নদী ভরাট ও দখলের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।