ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চাষাড়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত দৈর্ঘ্য ১৬ কিলোমিটার। সড়কের বিভাজকের দুই পাশে এমনকি রাস্তার পার্শ্বেও জমেছে বালুর স্তূপ। রাস্তা পরিষ্কার না করায় উড়ছে ধুলাবালি। বিশেষ করে যানবাহন চলাচলের সময় ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় পুরো সড়ক ও রাস্তার দু’পাশে থাকা দোকান-পাট। রাস্তাটির পরিচ্ছন্নতাসহ দেখভালের দায়িত্ব নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ)।
যোগাযোগ করা হলে নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহা. আলিউল হোসেন মোবাইলে বলেন, আমরা তো রাস্তা পরিষ্কার করি। হানিফ ফ্লাইওভার থেকে কাঁচপুর সড়ক পর্যন্ত আমরা তো কাজ করেছি। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডও পরিষ্কার করেছিলাম। ফের বালু জমে গেছে। মূলত বালুর ট্র্রাক চলার কারণেই রাস্তায় বালু জমে যায়। তবে আমরা আবারও ধুলাবালি পরিষ্কার করব।
সরেজমিনে চাষাড়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, ১২ কিলোমিটার রাস্তার বিভাজকের দু’পাশে বালুর স্তূপ। আবার কোথাও বালুর সাথে যুক্ত আছে মাটি। বালুর ওপর পড়ে আছে কাগজ, বিভিন্ন দ্রব্যের খালি মোড়কসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা। রাস্তার দু’পাশে গাড়ি চলছে আর ধুলাবালি বাতাসে উড়ছে। সেই সাথে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। সরেজমিনে আরও দেখা যায়, চাঁনমারী, নতুন কোর্ট, জেলা পরিষদ, জেলগেট, কায়েমপুর, সস্তাপুর, শিবু-মার্কেট, লামাপাড়া, স্টেডিয়াম, জালকুড়ি, কড়ইতলা, ভুইগড়, মাহমুদপুর ও সাইনবোর্ড স্ট্যান্ডের দু’পাশেই রয়েছে অসংখ্য দোকান। ধুলার কারণে এসব দোকানিরা দোকানে বসতে পারছেন না। তাদের অভিযোগ কিছুদিন পরপর ধুলা পরিষ্কার করার নিয়ম থাকলেও কেউ আসে না এই ধুলার স্তূপ পরিষ্কার করতে।
শিবু মার্কেট এলাকার দোকানিদের অভিযোগ, দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা এই রোডে গাড়ি চলে। রাতের বেলাতে বড় বড় ট্রাক চলে। যখনই গাড়ি যায় ঠিক তখনই ধুলাবালি উড়তে থাকে। মাঝে মাঝে ধুলাবালি থেকে বাঁচতে দোকানের শাটার ফেলে দিয়ে বসতে হয়। এই রাস্তার ধুলাবালি পরিষ্কারের জন্য সরকারের লোক থাকলেও তাদের কখনই কাজ করতে দেখা যায় না। দোকানিরাই সবসময় রাস্তায় পানি দেয়; যাতে করে ধুলাবালি না ওড়ে।
জেলা পরিষদ এলাকার দোকানিরা বলেন, অতি শীঘ্রই কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়া দরকার। এভাবে চলতে থাকলে রাস্তার পাশে দোকান পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। এত পরিমাণে ধুলা ওড়ে যে দোকানে বসে থাকা তো দূরের কথা দোকানে আসতেও ইচ্ছা করে না। এ বিষয়ে এক বাইক চালক ইরফান আহমেদ বলেন, হেলমেট তো সবসময়ই মাথায় থাকে। রাস্তায় এত পরিমাণে ধুলা থাকে যে এই গরমের মধ্যেও রেইনকোর্ট পড়ে গাড়ি চালাতে হয়। আর তা না হলে ধুলাবালিতে জামা-কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। স্থানীয় রিকশাচালক হামিদ মিয়া জানান, সারাদিন ধরে রাস্তায় গাড়ি চালায় সে। কিন্তু ধুলাবালির কারণে রাতে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় তার। তিনি বলেন, গাড়ি চালানোর সময় গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে রাখি। কিন্তু কতক্ষণ আর মুখ আটকিয়ে রাখা যায়। এই ধুলাবালির কারণেই দম বন্ধ হইয়া একদিন মরতে হইবো। এলাকাবাসী জানায়, রাস্তায় ধুলাবালির কারণে মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট হয়। মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। তাই অচিরেই সড়ক ও জনপদ বিভাগের দুর্ভোগ লাঘবে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।