উখিয়ার ইনানীতে গত কয়েক বছরে জেগে উঠেছে বালুকাময় বিশাল চর। সম্প্রতি এ চরে বেড়ে উঠছে অসংখ্য ঝাউ গাছ। পর্যটকরা দীর্ঘ ও দুর্গম পথ পেরিয়ে সেখানে বেড়াতে যাচ্ছেন। স্থানীয় পরিবেশবাদীরা বলছেন, প্রাকৃতিক উপায়ে বাড়তে থাকা এ চর উখিয়ার পর্যটন শিল্পকে আরো আকর্ষণীয় করবে। জেগে উঠা এ চরকে সরকারিভাবে সংরক্ষণের উপর জোর দিচ্ছেন তারা। সরেজমিনে মাদারবনিয়া উপকূল থেকে হিমছড়ি ব্লক বিচ এলাকা ঘুরে স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুস ছালামের (৫৫) সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১০ সালের দিকে সাগরে তাদের বিলীন হয়ে যায়। সর্বস্বান্ত হয়ে তারা আশ্রয় নেয় পাহাড়ের পাদদেশে। তিনি জানান, গত কয়েক বছর ধরে বিলীন হয়ে যাওয়া জমিজমা চর আকারে জেগে উঠছে। ওই জমির মালিকানা দাবি করা যাবে কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, জেগে উঠা চর সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে। তবে তিনি বলেন, তাদের বিলীন হওয়া জমির প্রয়োজনীয় দলিলপত্র রয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন জানান, ২০১০-১১ সালের দিকে সাগরের কিনারা ছিল বর্তমান মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন এলাকায়। বর্তমানে মাঝখানে রেজুখালের শাখা প্রশাখা বয়ে গেলেও ভাটার সময় তা শুকিয়ে যায়। ফলে ইনানী চলে গেছে অনেক দূরে। আগে যেখানে পর্যটকরা সাগরের সৌন্দর্য উপভোগ করতো, তা এখন আর নেই। পর্যটকদের সাগরে নামতে হলে মেরিন ড্রাইভ থেকে অন্তত ১ কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয়। তিনি বলেন, ইনানীর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে যে চর জেগে উঠেছে তা সংরক্ষণ করা না হলে ক্ষমতাধর রাঘববোয়ালদের করায়ত্বে চলে যেতে পারে জেগে উঠা এ চর। পাশাপাশি হিমছড়ি এলাকার ভাঙন রোধে সেনা সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেলেও প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে মেরিন ড্রাইভের স্থায়িত্ব রাখা কতটুকু সম্ভব তা নিয়েও ভাবার বিষয়।
কক্সবাজারের পরিবেশ ও মত্স্য উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ বিশ্বজিত্ দাশ জানান, সাগরে নতুন ভূমি জেগে উঠা বা সংযুক্ত হওয়া ভূমি সম্প্রসারণের সহায়ক। চর জেগে উঠলে তা পর্যটন শিল্পের বিকাশে দৃশ্যমান ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, বর্তমানে ব্লক বিচ থেকে মাদারবনিয়া পর্যন্ত যে চরটি জেগে উঠেছে তা সংরক্ষণ করা না হলে সমুদ্র এলাকায় দুর্লভ ও দৃষ্টিনন্দন ইনানী সৈকতের প্রকৃতি ও ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত লেঃ কর্নেল ফোরকান আহম্মদ বলেন, জেগে উঠা চর পর্যটন শিল্পের উত্তোরণ ঘটাবে। তবে তা যথাসময়ে সংরক্ষণ করতে হবে।
এ ব্যাপারে ইনানী বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, ইনানী দিন দিন বড় হচ্ছে। তাই পর্যটন শিল্পের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব আদায় করা সম্ভব। তবে জেগে উঠা চরকে দৃষ্টিনন্দন করতে পদক্ষেপ নেওয়ার দরকার বলে তিনি মনে করেন। ইনানীতে যত্রতত্র গড়ে উঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে ইউএনও বলেন, পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের স্বার্থে ওই সব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।