মাটির শিল্প বলতে মাটির তৈরি শিল্পকর্মকে বোঝায়

বাংলা

মো. সুজাউদ দৌলা, সহকারী অধ্যাপক

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা

 

 

 

 

 

 

শখের মৃিশল্প

 

প্রশ্ন-১। মাটির শিল্প বলতে কী বুঝি?

উত্তর: মাটির শিল্প বলতে মাটির তৈরি শিল্পকর্মকে বোঝায়। এদেশের সবচেয়ে প্রাচীন শিল্প হচ্ছে মাটির শিল্প বা মৃিশল্প।

মাটির শিল্প বলতে যা বুঝি: মাটিকে প্রধান উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে যে শিল্পকর্ম তৈরি করা হয়, সেটাই মাটির শিল্প। মাটির শিল্পের জন্য প্রয়োজন পরিষ্কার এঁটেল মাটি। এঁটেল মাটি হলেই শিল্পের কাজ হয় না। এজন্য প্রচুর শ্রম আর নৈপুণ্য প্রয়োজন। এছাড়াও প্রয়োজন হয় বিভিন্ন প্রকার সরঞ্জামের। মাটির শিল্প যেমন- বিভিন্ন প্রকার হাঁড়ি পাতিল বানাতে সবার আগে প্রয়োজন হয় কাঠের চাকার। তবে মাটির শিল্প সৃষ্টি কুমোরদের কাছে খুব সহজ কাজ। কারণ কুমোররা বংশ পরম্পরায় এসব কাজ করে আসছে।

কুমোররা বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে মাটি দিয়ে যেসব শিল্পকর্ম সৃষ্টি করে, সেটাই মাটির শিল্প।

প্রশ্ন-২। বাংলাদেশের প্রাচীন শিল্পকর্ম কোনটি?

উত্তর: পোড়ামাটির ফলক বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন শিল্পকর্ম। এ শিল্পকর্মের কাজ শুরু হয়েছে প্রায় হাজার বছর আগে।

প্রাচীন শিল্পকর্ম: পোড়ামাটির ফলককে বলা হয় টেরাকোটা, কাদামাটিকে ছাঁচে ফেলে বিভিন্ন প্রকার নকশা সৃষ্টি করা হয়। তারপর এই নকশাকাটা মাটিকে রোদে শুকানো হয়। শুকানো হলে আগুনে পোড়ানো হয়। পোড়ানো এসব নকশা বেশ শক্ত হয়। টেরাকোটার আকৃতি অনেকটা ইটের মতো। টেরাকোটার উপরের পিঠে নকশা করা থাকে। শালবন বিহার, মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর বৌদ্ধ স্তুপ, দিনাজপুরের কান্তজির মন্দির ও বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদে প্রাচীন টেরাকোটার সন্ধান পাওয়া গেছে।

টেরাকোটা বা পোড়ামাটির ফলক সবচেয়ে প্রাচীন শিল্পকর্ম। এগুলো আমাদের ঐতিহ্য ও গর্বের বস্তু।

প্রশ্ন-৩। শখের হাড়ি কী রকম?

উত্তর: শখের হাঁড়ি যে রকম: কুমোররা কাদা মাটিকে কাঠের চাকার ওপর রাখে। তারপর  চাকা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তৈরি করে হাঁড়ি। তারপর এ সব হাঁড়ি শুকিয়ে আগুনে পোড়ায়। পোড়ালে হাঁড়ি শক্ত হয়ে যায়। তখন এসব হাঁড়িতে রঙ দিয়ে বিভিন্ন নকশাকে ফুটিয়ে তোলে। নিপুণ হাতে তারা আঁকে বিভিন্ন প্রকার ফুল আর মাছ। তখন এসব হাঁড়ি দেখতে বেশ সুন্দর লাগে। মানুষ শখ করে এসব হাঁড়ি কেনে। এসব হাঁড়িতে শখের জিনিস রাখা হয়।

প্রশ্ন-৪। বৈশাখী মেলায় কী কী পাওয়া যায়?

উত্তর: বৈশাখী মেলায় যা যা পাওয়া যায়: বৈশাখী মেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বস্তু হলো মাটির শিল্প। মাটির তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র পাওয়া যায় বৈশাখী মেলায়। এর মধ্যে অন্যতম হলো শখের হাঁড়ি। মানুষ শখ করে নকশা আঁকা এসব হাঁড়ি কেনে। এছাড়াও রয়েছে মাটির বিভিন্ন প্রকার টেপা পুতুল। আরো আছে মাছ, হাতি, ঘোড়া, বাঘ, বর-কনে, নথ পরা বউ পুতুল ইত্যাদি। বাঁশের তৈরি বিভিন্ন জিনিস যেমন- কুলো, ডালা, ঝুড়ি, চালুন, মাছ ধরার চাঁই ইত্যাদিও পাওয়া যায় বৈশাখী মেলায়। মুড়ি মুরকি, বাতাসা আর জিলাপি পাওয়া যায় মেলার এক পাশে। এছাড়াও পাওয়া যায় বিভিন্ন প্রকার ফল। যেমন- বাঙি, তরমুজ, আনারস, আম, কাঁঠাল ইত্যাদি।