কৃষিমূল্য নীতি চাই

সরকারের ধান-চাল সংগ্রহের মূল উদ্দেশ্য হলো, বাজার স্থিতিশীল রেখে কৃষকের ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা। নিঃসন্দেহে এটা ভালো উদ্যোগ। তবে প্রশ্ন হলো-আসলেই কৃষকের স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে কি? কৃষক ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে কি? একটা উদাহরণ দিলেই বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে। বর্তমানে দেশের হাটবাজারগুলোতে প্রতি মণ স্বর্ণা ৫ জাতের ধান ৬৩০ থেকে ৬৮০, রণজিত ৬৭০ থেকে ৬৯০, বিআর ৬৬০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সর্বোচ্চ মণ ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাহলে প্রতি কেজির দাম পড়ে ১৮ টাকা ৯২ পয়সা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে এবার প্রতি কেজি আমন ধান উত্পাদন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ টাকা ৩০ পয়সা। এ হিসাবে কৃষকের লোকসান হচ্ছে ৬ টাকারও বেশি। ২০১৮-তে উত্পাদন খরচ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৪ টাকা, যা ২০১৭-তে ছিল ৩৭ টাকা। উত্পাদনের সব উপকরণের খরচ বেড়েছে। অথচ উত্পাদন ব্যয় বাড়েনি। এটা স্পষ্টত অসঙ্গতি। কৃষক এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষি খাতে ভর্তুকি নিয়ে নানা কথা হয়। কিন্তু আজো কৃষিপণ্য মূল্য নীতি হয়নি। কৃষি মূল্য কমিশনও নেই। যারা কৃষকের ফসলের সঠিক উত্পাদন খরচ নির্ধারণ করবে। পণ্যমূল্য নির্ধারণ করবে। যাতে কৃষকের সামান্য হলেও লাভ থাকবে।

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

বানারীপাড়া, বরিশাল