গাউন বা স্কার্ট

পোশাকে নতুনত্ব

 
ইন্টারনেটের উৎকর্ষে বদলেছে সময়। আন্তর্জাতিক থেকে দেশি সব ফ্যাশনই এখন মুঠোফোনের পর্দার প্রতিনিয়ত দৃশ্যমান। উৎসবমুখর তরুণীরা নিজেকে এখন শুধুই ট্র্যাডিশনাল ক্লাসিক লুকে দেখতে অভ্যস্ত নয়, তাই ফেব্রিক বৈচিত্র্য থেকে প্যাটার্ন বা ডিজাইন এখন সবকিছুতে কনটেম্পরারি টুইস্ট দিতে যেন উৎসাহী ফ্যাশন ট্রেন্ডের প্রতিনিধিরা। এবারের ঈদে ফ্যাশনে ফোকাস ইন গাউন বা স্কার্ট-ব্লাউজ! একসময়ের ঢিলেঢালা ও আরামদায়ক এসব পোশাকই আধুনিক জীবনে নতুন ও বিচিত্র রূপে হাজির হয়েছে। যা কিনা সাধারণ উপস্থাপনায় আভিজাত্যপূর্ণ ও আরামদায়ক বটে। তাই এবার ঈদেও টু বি ট্রেন্ডি, স্কার্ট- ব্লাউজ বা গাউনের রয়েছে বাড়তি কদর।
 
গাউন: গাউন মূলত পাশ্চাত্যের পোশাক ও সেখানেই পোশাকটির জন্ম। গাউন কাটিংয়ের পোশাক মূলত মধ্যযুগ থেকে সপ্তদশ শতক পর্যন্ত নারী-পুরুষ উভয়েই পরতেন। এমনকি আধুনিক যুগেও বেশ কিছু পেশাজীবী নারী-পুরুষ গাউন পরে থাকেন। ফ্যাশনের চক্রাকারে, পরবর্তীকালে গাউন পোশাকটি মেয়েদের বডিস ও স্কার্ট-সম্বলিত ফ্লোর লেন্থের পোশাককেই বোঝানোর জন্য ব্যবহূত হতে শুরু করে। আর ব্যবহার ও ডিজাইন ভেদে গাউনের রয়েছে বিচিত্র পরিচয়। এগুলোর একেকটির আঙ্গিক ও পরার ধরন ভিন্ন। লাক্সারিয়াস এই পোশাক মেয়েরা সাধারণত ফরমাল অনুষ্ঠানে পরে। এর দৈর্ঘ্য টি-লেন্থ থেকে শুরু করে ফ্লোর লেন্থ—যেকোনো রকমের হতে পারে। এটি বিভিন্ন ধরনের লাক্সারিয়াস ফেব্রিক,  যেমন-  ভেলভেট, অরগ্যাঞ্জা, সিল্ক, শিফন, স্যাটিন ইত্যাদি দিয়ে তৈরি। এই গাউনের বৈচিত্র্যে ফ্যাশন জগতের নামিদামি ডিজাইনার ও ব্র্যান্ডের অবদান সবচেয়ে বেশি। বল কাটিং গাউনও মেয়েদের জন্য পরিপূর্ণ ফরমাল পোশাক। পাশ্চাত্যের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মেয়েরা এটি পরে থাকে। মূলত ফুল-স্কার্টেড এই গাউন বেশ উঁচু দরের ফেব্রিক দিয়ে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে তৈরি হয়ে থাকে। এর কাঁধের অংশ থেকে নেকলাইন বরাবর সাধারণত খোলা থাকে। এ ধরনের গাউনের সঙ্গে কোটের বদলে পরা হয় স্টোল, কেপ বা ক্ল্যোক কিংবা কতুর ভিনটেজ জুয়েলারি এবং অপেরা শোর পোশাকে ব্যবহূত গ্লাভসের দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট গ্লাভস পরা হয়ে থাকে। পাশ্চাত্য সংস্কৃতির মতো আমাদের এখানকার ঈদের রাতের কোনো অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহূত জুতা ও ইভনিং ক্লাচ এই গাউনের জন্য জুতসই অ্যাকসেসরিজ।
 
স্কার্ট-ব্লাউজ: একটা সময় শুধুই ঘরোয়া আড্ডায় তরুণী-কিশোরীদের পরনে দেখা যেত আরামদায়ক স্কার্ট-টপ। আর করপোরেট ধাঁচের স্কার্ট চলত অফিসে। তার সঙ্গে পরা হতো শার্ট ব্লেজার। তবে জিনস- কুর্তি- লেগিংস  বা সিঙ্গেল কামিজ এক সময়ে যেমন জনপ্রিয়তা পেয়েছিল স্কার্ট তেমনটা পায়নি। সময় বদলেছে। ফ্যাশনে নিত্যনতুন অনুষঙ্গ যোগ হয়েছে, স্কার্ট এখন  আধুনিক তরুণীরা হরদম পরছেন বাইরে। পার্টি পোশাক হিসেবেও স্কার্ট চলছে বেশ। সম্প্রতি ঈদ ফ্যাশনেও দেখা গেল ট্রেন্ডি ও একটু কম দৈর্ঘ্যের স্কার্টের প্রাধান্য। কথা হলো আইকনিক ফ্যাশন গ্যারেজের উদ্যোক্তা তাসলিমা মলির সঙ্গে। স্কার্টে এখন প্যাটার্ন ও কাটের বৈচিত্র্য বেশ দেখা যাচ্ছে বলে জানালেন তিনি। এর মধ্যে সবচেয়ে ট্রেন্ডি সামনে-পিছনে অসমান কাট ও বেশি ঘেরের কাটের স্কার্ট। আরও চলছে এ কাট, রুমাল ছাঁট, সারকুলার কাট, হাফ সারকুলার কাট ও টায়ার কাট। এর মধ্যে টায়ার কাট সব সময়েই জনপ্রিয়। এ ধরনের স্কার্টে কুঁচিগুলো অনেকটা শাড়ির কুঁচির মতো থাক থাক হয়ে থাকে। তবে প্রতিটা কুঁচির মধ্যে বেশ দূরত্ব থাকে। ফ্লোর টাচ স্কার্ট অর্থাত্ পায়ের গোঁড়ালি ছাড়ানো দৈর্ঘ্যের স্কার্টের পাশাপাশি থ্রি-কোয়ার্টার অর্থাত্ গোড়ালি থেকে ছয়-সাত ইঞ্চি ওপর পর্যন্ত ঝুলের স্কার্টগুলোও এখন খুব চলছে। সুতি, লিনেন, ভিসকোস ও ক্যাশমিলান কাপড়েই এগুলো তৈরি করা হচ্ছে। মলি আরো জানান, এধরনের পোশাক তাদের ধানমন্ডি সাতমসজিদ রোড স্টোরের চেয়ে বেশি চলে বনানী, যমুনা ফিউচার পার্ক ও উত্তরা স্টোরে। মূলত এধরনের পোশাকের ক্রেতারা সবাই বয়সে তরুণী ও ফ্যাশনসচেতন।