বর্ণবাদ প্রতিহত করার আহ্বান নিউজিল্যান্ড প্রধানমন্ত্রীর

কট্টর দক্ষিণপন্থী বর্ণবাদী মতাদর্শের মূলোত্পাটনের লক্ষ্যে বিশ্বের সব দেশের একত্রিত হয়ে লড়াই করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। অভিবাসনের হার বেড়ে যাওয়ায় বর্ণবাদ বাড়ার দাবিও প্রত্যাখান করেছেন তিনি। গত শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে শ্বেতাঙ্গ জঙ্গির হামলায় ৫০ জন নিহত হন। গতকাল থেকে নিহতদের দাফনের কাজ শুরু হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার জুমার নামাজ সরাসরি সমপ্রচার করবে নিউজিল্যান্ডের মিডিয়া। গতকাল দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন এই তথ্য জানিয়েছেন। এদিকে স্থানীয় পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ জানিয়েছেন, হামলাকারী তৃতীয় হামলার পরিকল্পনা করেছিল। তারা সেটা ঠেকাতে সক্ষম হয়েছেন।

নিহতদের দাফন শুরু

ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলার ঘটনায় নিহতদের কবর দেওযার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। প্রথম যে দুইজনকে কবর দেওয়া হয় তারা গত বছর নিউজিল্যান্ডে এসেছিলেন শরণার্থী হিসেবে। ৪৪ বছর বয়সী খালেদ মুস্তাফা এবং তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে হামজা সিরিয়ার অধিবাসী ছিলেন। গতকাল ছয়জনকে কবর দেওয়া হয়। কবর দিতে সহায়তা করতে এবং নিহতদের পরিবারকে সমর্থন জানাতে নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রাইস্টচার্চে আসেন স্বেচ্ছাসেবীরা। ক্রাইস্টচার্চ মেমোরিয়াল পার্ক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী আর্ডেন বলেন, সংহতিমূলক অবস্থান থেকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে শুক্রবারের নামাজ সরাসরি সমপ্রচারের পাশাপাশি দুই মিনিট নীরবতা পালনের সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি।

বিবিসিকে জেসিন্ডা যা বলেছেন

উগ্র কট্টরপন্থী জাতীয়তাবাদী মনোভাবের উত্থানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আর্ডেন বলেন, নিউজিল্যান্ডে আমরা এ ধরনের মতাদর্শে বিশ্বাস করি না। নিউজিল্যান্ডের    মানুষের সাথে এরকম মানসিকতা মেলানো হলে অধিকাংশ নিউজিল্যান্ডারকেই অপমান করা হবে। তিনি বলেন, এই ধরনের মানসিকতার মূল খুঁজে বের করে পদক্ষেপ নিতে হবে যেন এমন মানসিকতা ছড়িয়ে পড়তে না পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিউজিল্যান্ডের ঘটনায় এখানকার মানুষ এমন এক ব্যক্তির সহিংসতার ভুক্তভোগী হয়েছে যে নিউজিল্যান্ডের বাইরে তার কট্টরপন্থী মতাদর্শের সাথে পরিচিত হয়েছে এবং সেখানেই এর অনুশীলন করেছে। আমরা যদি নিরাপদ ও সহনশীল বিশ্ব চাই তাহলে সীমানার বিষয়ে চিন্তা করলে চলবে না বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী আর্ডেন। শরণার্থীদের গ্রহণের বিষয়ে নিউজিল্যান্ডের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে মানুষকে স্বাগত জানানো হয়। নিউজিল্যান্ডকে যারা নিজের দেশ মনে করে তাদের স্বাগত জানাতে গিয়ে কট্টরপন্থি মতাদর্শ ছড়ানোর পরিবেশ তৈরি করে দিচ্ছি এমন ধারণা প্রত্যাখান করেন আর্ডেন। সোশ্যাল মিডিয়া যেন সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় আরো বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে সে বিষয়টিতেও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এদিকে নিউজিল্যান্ডের কিছু মানুষ এরই মধ্যে তাদের অটোম্যাটিক ও সেমি-অটোম্যাটিক অস্ত্র পুলিশের কাছে জমা দিতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডে হতাহতের ঘটনা উদযাপন করায় এক কর্মীকে বরখাস্ত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিরাপত্তা কোম্পানি ট্রান্সগার্ড।