বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে ওমর ফারুক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তিও তিনি। ভাগ্য ফেরাতে ২০১৫ সালে পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর নিউজিল্যান্ডে। ভাগ্যক্রমে নিউজিল্যান্ডের সিটিজেনশিপও পেয়েছিলেন। সেখানে একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে কাজ করতেন ওমর ফারুক।
২০১৭ সালের ডিসেম্বরে সবকিছু গুছিয়ে দেশে ফিরে বিয়ে করেন একই এলাকার সানজিদা জামান নিহারকে। বিয়ের কিছুদিন পরই ফিরে যান তিন। গত ১৬ নভেম্বর ছুটি নিয়ে আবারো দেশে আসেন। কিছুদিন বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে কাটিয়ে ১৮ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ড ফিরে যান তিনি। তার স্ত্রী সানজিদা জামান নিহার বর্তমানে ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সুদূর নিউজিল্যান্ডে গেলেও ফারুকের মন পড়ে থাকতো তার নিজ বাড়ি বন্দরের রাজবাড়িতে। দিন শেষে বাবা-মা, বোন ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেই কাটতো তার সময়। প্রতিদিন স্ত্রীকে তার নিজের ও তাদের অনাগত শিশুর যত্ন নেয়ার জন্য কত কিছুই না বলতেন। অনাগত সন্তানকে নিয়ে দুজন মিলে বুনেছিলেন হাজারো স্বপ্ন। প্রতিদিনের মতো নিউজিল্যান্ড সময় শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন ওমর ফারুক। স্ত্রীকে বলেছিলেন, সাবধানে চলাফেরা করতে, নিজের ও সন্তানের যত্ন নিতে। কথা দিয়েছিলেন একসঙ্গে মুখ দেখবেন তাদের সন্তানের। কিন্তু অনাগত সেই সন্তানের মুখ আর দেখা হলো না তার। গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের আল নূর মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গেলে এক শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসীর নৃশংস হামলায় নিহত হন তিনি।
শুক্রবার সকালে কথা শেষে শনিবার বিকেলে গণমাধ্যমে দুই বাংলাদেশির লাশ শনাক্ত হওয়ার খবর জানতে পেরে স্বজনরা যোগাযোগ করেন নিউজিল্যান্ডে। সেখান থেকেই তারা ওমর ফারুকের নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন। ওমর ফারুকের মৃত্যুর সংবাদে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবার ও এলাকাবাসীদের মাঝে। আগামী দিনগুলো কিভাবে চলবে এবং জন্মের আগেই পিতার ছায়া থেকে বঞ্চিত সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দিশেহারা স্ত্রী সানজিদা জামান নিহার। ফারুককে হারিয়ে স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা দিশাহারা। ওমর ফারুকের লাশ দ্রুত ফিরিয়ে আনাসহ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তারা।