নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে অবৈধ সাতটি হাউজিং প্রকল্প কর্তৃক জলাশয় ও কৃষি জমি ভরাট করার প্রতিবাদে বুধবার মানববন্ধন করেছে স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী। ঢাকা-বাইপাস সড়কের রূপগঞ্জের কালনী এলাকায় আয়োজিত এই মানববন্ধনে কৃষাণ-কৃষাণী ও তাদের স্কুল, কলেজে পড়ুয়া সন্তান এবং এলাকাবাসী অংশ নেন। এর আগে কালনী বাজার মাঠে এক প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন হাইকোর্টে রিটকারী কৃষক হুমায়ুন কবীর মিয়া। আরও বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম, কৃষক গোলজার হোসেন মোল্লা, শাহআলম, শিউলি খাতুন প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, তারা পূর্বাচল উপশহরের আদি বাসিন্দা। ভূমি হুকুমদখলের কারণে বাপ-দাদার বসত বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়ে তারা এখানে ঘর বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। এরই মধ্যে সাতটি হাউজিং প্রকল্প নামমাত্র জমি ক্রয় করে কিংবা ওয়ারিশের অংশ কিনে কিংবা সরকারি জমি লিজ নিয়ে আশপাশের জমিও জোর করে বালু ফেলে ভরাট করে ফেলছে। এ ব্যাপারে গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক হুমায়ুন কবির মিয়া হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করেন। পরে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারক তারিকুল হাকিম ও বিচারক সোহরাওয়ার্দী হাউজিং প্রকল্পগুলোর অবৈধ বালু ভরাট বন্ধ করে তাদের প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত কাগজপত্র চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রদানের আদেশ দেন। কিন্তু আদালতের এ আদেশ অমান্য করে স্থানীয় ভূমিদখলদারদের সহায়তায় তারা ওই এলাকার জলাশয় ও কৃষি জমি বালু দিয়ে ভরাট করে যাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, গোবিন্দপুর গ্রামের হুমায়ুন কবিরের ৪৫ শতাংশ, শাহজাহানের ৩৫ শতাংশ, বাছির উদ্দিনের ১৫ শতাংশ, নাছিরের ১০ শতাংশ, যতিন্দ্র দাসের ৩০ শতাংশ, হেলির ১৫ শতাংশ, লেয়াকত আলীর ২৫ শতাংশসহ অর্ধশত কৃষকের জমি জোর করে ভূমিদখলদাররা বালি দিয়ে ভরাট করে ফেলেছে। পূর্বাচল উপশহর ঘেঁষে অবস্থিত হওয়ায় এলাকাটি দখলদারদের নজরে আসে। দাউদপুর ইউনিয়নের কুলিয়াদী, নোয়াগাঁও, হিরনাল ও কালনী মৌজাস্থিত ১০-১২ টি গ্রামের কৃষিজমি, জলাশয়, খেলারমাঠ, মসজিদ, মাদ্রাসা, মাজার, মত্স খামার, পোল্ট্রি ও ডেইরি ফার্ম, গণশিক্ষা কেন্দ্র, কিন্ডারগার্টেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় নিয়ে অবস্থিত এই এলাকাটি। খেলার মাঠ, উদ্যান ও প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণ আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ভূমিদখলদাররা অবৈধভাবে বালু ভরাট অব্যাহত রেখেছে। কৃষকরা সংশ্লিষ্ট বিভাগে আবেদন-নিবেদন করেও কোনো সুফল পাচ্ছেন না।