কিশোরগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ধর্মঘট আহ্বানকে কেন্দ্র করে বাস মালিকদের দুটি অংশ পরস্পরবিরোধী অভিযোগ করেছেন। চাঁদাবাজির প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জ থেকে টোক-কাপাসিয়া-গাজীপুর হয়ে মহাখালী রুটে গতকাল বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট শুরু করেছেন বাস মালিকদের একটি অংশ। মালিকদের অপর একটি অংশ চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রশাসন অতিরিক্ত বাস ভাড়া কমিয়ে দেওয়ায় একটি অংশ যাত্রীদেরকে জিম্মি করে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে ধর্মঘট করছেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন সমিতির সদস্য সচিব শেখ ফরিদ আহাম্মদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জ আন্তঃজেলা বাসস্ট্যান্ডে একটি চক্র চাঁদাবাজি করে আসছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে অবগত করার পরও তারা চাঁদাবাজি বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেননি।
অপরদিকে গতকাল বুধবার দুপুরে আন্তঃজেলা বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মালিকদের অপর একটি অংশ পাল্টা অভিযোগ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে মালিক ও শ্রমিকদের পক্ষে যাতায়াত (প্রা:) লি: এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ.এইচ.এম জুনায়েদ পিন্টু লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০১৬ সনের শুরুতেই এই মালিকরা কিশোরগঞ্জ টু ঢাকা দু’শ টাকা ভাড়ার স্থলে অযৌক্তিকভাবে ২০ টাকা বাড়িয়ে দেন। সম্প্রতি প্রশাসন ২০ টাকা ভাড়া কমিয়ে দেওয়ায় প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে তারা চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ এনে ধর্মঘট শুরু করেন। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়ায় পরিবহনের নৈরাজ্য চলছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো:সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানান, সমস্যা নিরসনে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই বিষয়টির সমাধান হবে বলে তিনি জানান।