নেদারল্যান্ডে দেশি আমেজে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর পালিত

নেদারল্যান্ডের রাজধানী  দি হেগে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে বাংলাদেশ হাউজে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ভাব-গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে অভিবাসী বাংলাদেশিরা পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন করেছে। বুধবার ঈদ-অপরাহ্ণে নেদারল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মুহম্মদ বেলাল তাঁর সরকারী বাসভবন তথা বাংলাদেশ হাউজে অভিবাসী বাংলাদেশীদের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
 
দূতাবাসের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে নেদারল্যান্ড ও পার্শ্ববর্তী দেশ জার্মানি, বেলজিয়াম থেকে প্রায় দুইশতাধিক বাংলাদেশী বাংলাদেশ হাউজে উপস্থিত হন।
 
এছাড়া রাষ্ট্রদূতের আমন্ত্রণে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতে বাংলাদেশ হাউজে সস্ত্রীক উপস্থিত হন নেদারল্যান্ডে নিযুক্ত ভারত ও মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতবৃন্দ ও স্থানীয় মিডিয়া ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, আই.টি প্রফেশনাল সহ সকল শ্রেণী-পেশার বাংলাদেশিই ছিলেন। বিশেষ করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। 
 
IMG0
 
উপস্থিত সকল বাংলাদেশির সঙ্গে রাষ্ট্রদূত ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি তাঁদের সার্বিক খোঁজ-খবর নেন। গ্রীষ্মের প্রারম্ভে চমৎকার রৌদ্রকরোজ্জল বিকেলে সকলের ঈদ কোলাকুলি আর শিশুদের কলকাকলিতে বাংলাদেশ হাউজের সবুজ লন রূপ নেয় বাংলাদেশীদের মিলনমেলায়। বাংলাদেশ হাউজে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আসা বাঙালীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্থানীয় বাংলাদেশী শিল্পীবৃন্দের মনোজ্ঞ সঙ্গীত পরিবেশনা, সমবেত কণ্ঠে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের “ও মোর রমজানের এই রোজার শেষে এলো খুশী ঈদ.....” এর মাধ্যমে যার শুরু। ত্যাগের মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে পবিত্র ঈদ পালনে নেদারল্যান্ডে বসবাসরত সকল বাংলাদেশীকে একত্র করতে দূতাবাসের এ উদ্যোগকে সকলে স্বাগত জানান।
 
অনুষ্ঠানে এক পর্যায়ে যোগ দেন ঢাকা থেকে নেদারল্যান্ডে ৪ দিনের সরকারী সফরে আগত তিন মাননীয় সংসদ সদস্য, জনাব ইসরাফিল আলম, ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পি, ও নাজমুল হক প্রধান। মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ সম্প্রতি গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলাকে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুদীর্ঘ সংস্কৃতির উপর আক্রমণ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানান এবং এধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পরিবার তথা পিতা-মাতার ভূমিকার উপর গুরুত্বারোপ করেন।   
 
IMG1
 
ঈদ আয়োজনে উপস্থিত অতিথিবৃন্দকে আপ্যায়িত করা হয় চিরায়ত বাংলাদেশি খাবারে। ঈদের দিনে বাংলাদেশি বন্ধুদের ভিড়ে দেশী খাবারের স্বাদে আর বাংলা গানের সুরে অভিবাসী বাংলাদেশিবৃন্দ বিদেশের বুকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও বিচরণ করেন বাংলাদেশের মাটিতে।