ব্রেক্সিট চুক্তি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস হলেই কেবল বিলম্ব সম্ভব

ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, ব্রেক্সিট চুক্তি ব্রিটেনের পার্লামেন্টে পাস হলেই কেবল বিলম্ব সম্ভব। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র বিলম্ব করার অনুরোধের জবাবে এই কথা বলেছেন ইইউ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক। আগামী সপ্তাহে ব্রিটেনের পার্লামেন্টে এ নিয়ে ভোটাভুটি হওয়ার কথা। এর আগে গতকাল বুধবার ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়ে ইইউ’র সদরদপ্তরে চিঠি পাঠান প্রধানমন্ত্রী মে। খবর বিবিসি’র

প্রধানমন্ত্রী মে টাস্কের কাছে লেখা চিঠিতে বলেছেন, ব্রেক্সিট চুক্তি এমপিদের দ্বারা পাস করাতে তার আরো কিছু সময় প্রয়োজন। তাই ৩০ জুন পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া স্থগিত করতে তিনি ইইউ’র প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছেন। চিঠি লেখার পরে প্রধানমন্ত্রী মে বলেন, ৩০ জুনের পর তিনি আর বিলম্ব করতে চান না। আর এই বিলম্ব মানে ‘নো ডিল ব্রেক্সিট’ নয়। প্রধানমন্ত্রী আশংকা প্রকাশ করেন, ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে দীর্ঘ বিলম্বের ফল হিসেবে ব্রিটেনকে আসন্ন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে অপ্রত্যাশিতভাবে অংশগ্রহণ করতে হতে পারে।

ব্রাসেলসে ডোনাল্ড টাস্ক সাংবাদিকদের বলেন, ইইউ’র ২৭টি দেশই বিলম্বের চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন বলে আশা রাখি। তবে এটি নির্ভর করছে আগামী সপ্তাহে ব্রিটেনের পার্লামেন্ট হাউস অব কমন্সে ব্রেক্সিট চুক্তি পাস হয় কিনা। তিনি আরো বলেন, ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া নিয়ে ২৩ মে’র পরে বিলম্ব হলে রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। কারণ ওই সময় ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

চুক্তি অনুযায়ী আগামী ২৯ মার্চ থেকে ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার কথা। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্রেক্সিট কার্যকরে বিলম্ব নিয়ে গত ১৪ মার্চ বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হয়। এখনই ইইউ না ছাড়ার পক্ষে ৪১৩ জন এবং বিপক্ষে ভোট দেন ২০২ জন এমপি। এর ফলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২৯ মার্চ ইইউ থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার বিষয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়।