পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বছরের শেষ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ক্যামেরুনকে ১-০ গোলে হারিয়েছে। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে নেইমারের ইনজুরির পর তার বদলি হিসেবে নামা রিচার্লিসনের গোলে জয়লাভ করে সেলেসাওরা। ক্যামেরুনের নৈপুণ্যে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন ব্রাজিল কোচ তিতে।
শুরুতেই দলের অধিনায়ক নেইমার চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে বড় ধাক্কা খায় ব্রাজিল। তবে ম্যাচের পরে এক বিবৃতিতে জানা যায়, তেমন গুরুতর নয় নেইমারের চোট। সবচেয়ে বড় তারকার অনুপস্থিতিতেও অধিকাংশ সময় বল দখলে রেখে আক্রমণে আধিপত্য করে তারা। ৪৩তম মিনিটে এগিয়েও যেতে পারত দলটি। কিন্তু মিডফিল্ডার অ্যালানের হেড কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান ক্যামেরুন গোলরক্ষক।
দুই মিনিট পরই গোল পেয়ে যায় পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। উইলিয়ানের কর্নারে অনেকখানি লাফিয়ে উঠে মাথা ছুঁইয়ে ক্যামেরুনের জালে জড়ান ২১ বছর বয়সী রিচার্লিসন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ওয়াটফোর্ড মিডফিল্ডারের এটি তৃতীয় গোল। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে মুহূর্তের ব্যবধানে ব্রাজিলের দুটি সুযোগ নষ্ট হলে ব্যবধান আর বাড়েনি। এক গোলের ব্যবধান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তিতের শিষ্যদের।
রাশিয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়ার পর টানা ছয় জয়ের পাশাপাশি ম্যাচগুলোতে নিজেদের জালও অক্ষত রাখলো ব্রাজিল। এই সময়ে প্রতিপক্ষের জালে মোট ১২ বার বল পাঠিয়েছে তারা। আগের পাঁচ ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র, এল সালভাদর, সৌদি আরব, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়েকে হারিয়েছিল নেইমাররা।
ম্যাচ হারলেও এদিন সুন্দর ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসেছিল কোচ ক্লারেন্স সিডর্ফের দল। ম্যাচের পর ক্যামেরুনের নৈপুণ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিতে। তিনি বলেন,‘আমি এমনকি সিডর্ফকে অভিনন্দনও জানিয়েছি। সুন্দর ফুটবলের পূজারীদের জন্যই ছিল ম্যাচটি। আমি বলছি না এখানে কে ভালো কিংবা খারাপ ফুটবল খেলেছে কিন্তু এটা ছিল এমন এক ম্যাচ যেখানে সুন্দর ফুটবলেরই চর্চা হয়েছে।’
তিতে আরও বলেন,‘আমরা চাপ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলাম, অনেকগুলো সুযোগ তৈরি করেছিলাম আমরা। কিন্তু আমরা সেগুলোকে পরিপূর্ণ করতে পারিনি কিংবা সেগুলোকে গোলে পরিণত করতে পারিনি। সেও (সিডর্ফ) খেলায় সৃষ্টিশীলতা নিয়ে এসেছিল। যাই হোক, এটা দৃষ্টিনন্দন এক ম্যাচই ছিল।’
দিনের অন্য প্রীতি ম্যাচগুলোয় জয় পেয়েছে ইতালি এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। ফরোয়ার্ড অলিভিয়ের জিরুর একমাত্র গোলে উরুগুয়ের বিপক্ষে জয় পেয়েছে ফ্রান্স। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ইতালি। যোগ করা সময়ে গোলটি করেন ইন্টার মিলানের ফরোয়ার্ড মাত্তেও পলিতানো।