টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকসহ ১১৫টি শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় ওই সব বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার উপজেলা শিক্ষা অফিসার বলেন, শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য শিক্ষকদের চাহিদা চেয়ে সংশ্লিষ্ট অধিদফতরকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, একটি পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে ১৭৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ১৭৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এছাড়া সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য
রয়েছে ৭০টি।
উপজেলার হেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, লতিফপুর, গোড়াই, আজগানা, তরফপুর, আজগানা, বাঁশতৈল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মির্জাপুর পৌরসভার মধ্যেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য বলে শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানা গেছে।
এদিকে ৪০টি প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতির জন্য নামের তালিকা জেলা শিক্ষা অফিস, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন পার হলেও নানা জটিলতার কারণে ৪০ শিক্ষকের পদোন্নতির ফাইল আটকা পড়ে আছে। যে কারণে পদোন্নতি প্রাপ্ত শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষক পদে যেতে পারছে না বলে জানা গেছে।
শূন্য পদগুলো পূরণ এবং পদোন্নতি প্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য শিক্ষকরা জোর দাবি জানিয়েছেন।
মির্জাপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. খলিলুর রহমানের বলেন, ‘উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ৪৫ জন প্রধান শিক্ষক ও ৭০ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া ৪০ জন সহকারী শিক্ষককে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগ শিক্ষক নিয়োগ না দেয়ায় পদগুলো এখন পর্যন্ত পূরণ করা যাচ্ছে না। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য তিনি জোর দাবি জানিয়েছেন।’