বাংলাদেশের স্পিন-চতুষ্টয়

এখনও ১৮ বছর পূর্ণ হতে ১০ দিন বাকি। এর মধ্যেই টেস্ট অভিষেক হয়ে গেলো। গতকাল বাংলাদেশ দলের এক প্রাণ ভোমরা মুশফিকুর রহিমের কাছ থেকে টেস্ট ক্যাপ পেলেন নাঈম হাসান। এর ভেতর দিয়ে হয়ে উঠলেন আঠারো ছোয়ার আগে বাংলাদেশের অষ্টম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট যাত্রা শুরু হলো নাঈমের। ছয় ফুটের চেয়েও লম্বা এই ক্রিকেটার অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ছিলেন ফাস্ট বোলার। তারপর নিজেকে বদলে অফস্পিনার হয়ে গেছেন। আর তিনি স্পিনার বলেই বাংলাদেশ গতকাল বিরল একটা কাজ করে ফেললো। এক সাথে চার বিশেষজ্ঞ স্পিনারকে মাঠে দেখা গেলো দলের হয়ে।

দেখা গেলো বাংলাদেশি ‘স্পিন কোয়ার্টেট’!

‘পেস কোয়ার্টেট’ বা চার পেসার ব্যাপারটা জনপ্রিয় করেছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদের হাতে ছিলো দানবীয় চার ফাস্ট বোলার। জবাবে ভারত নিজের মাটিতে নামাতো ‘স্পিন কোয়ার্টেট’—বিষেন সিং বেদী, এরাপল্লী প্রসন্ন, শ্রীনিবাস ভেংকটরাঘবন ও ভগবত চন্দ্রশেখর। পেস চতুষ্টয় আগে সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরে আরো দেখা গেছে। অস্ট্রেলিয়া কিছুদিন আগেও খেলিয়েছে চার পেসারকে। সে তুলনায় চার স্পিনার বিরল ব্যাপার।

এবার শুরু হলো বাংলাদেশের নিজস্ব ‘স্পিন কোয়ার্টেট’-এর পথ চলা। সাকিব আল হাসান, তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসান।

এক ম্যাচে চার স্পিনারের বল করাটা বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু নয়। দলে যেহেতু সবসময়ই এক দুইজন পার্ট টাইম স্পিনার থাকেন, তাই শুরু থেকেই বাংলাদেশ অনেক ম্যাচে চার স্পিনারকে দিয়ে বল করিয়েছে। এমনকি পাঁচ বা ছয় স্পিনারও বল করেছেন। কিন্তু এসব স্পিনারের তালিকায় হাবিবুল বাশার, মোহাম্মদ আশরাফুল, জুনায়েদ সিদ্দিকী, রাজিন সালেহ, মুমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহর মতো পার্টটাইমার থাকায় সেটাকে চার স্পিনারের দল বলা যাচ্ছে না।

তবে বাংলাদেশ এর আগেও একবার সত্যিকারের চার স্পিনার নিয়ে খেলতে নেমেছিলো। সেটা খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ যে ঢাকা টেস্ট জিতেছিলো, সেখানে ছিলেন চারজন বিশেষজ্ঞ স্পিনার। সেই টেস্টে খেলেছিলেন সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও শুভাগত হোম। শুভাগত ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম সেরা স্পিনার। ফলে তাকে বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে বিবেচনা করতেই হচ্ছে। সেই ম্যাচে এই চার বিশেষজ্ঞ স্পিনারের সাথে বল করেছিলেন সাব্বির রহমান রুম্মনও।

এই টেস্টে বাংলাদেশ চার বিশেষজ্ঞ স্পিনার তো নামিয়েছেই। দলে আছেন আরও দুইজন মোটামুটি নিয়মিত বল করা স্পিনার—মুমিনুল হক ও মাহমুদউল্লাহ। ফলে এই টেস্টে আবারও বাংলাদেশের হয়ে ছয়জন স্পিন বোলারকে হাত ঘুরাতে দেখা যেতে পারে। উইকেটে প্রথমদিন থেকেই যেমন আভাস মিলছে, তাতে ছয় স্পিনার যে বল করে ফেলতে পারেন, সেটা খুব অসম্ভব কিছু নয়।

আর এই উইকেট কাজে লাগিয়ে ম্যাচটা সবচেয়ে বেশি রাঙিয়ে রাখতে চাইবেন নিশ্চয়ই নাঈম হাসান। দলে তিন তিনজন অভিজ্ঞ স্পিনার থাকার পরও তার যে সুযোগটা হয়েছে, সেটা তিনি বৃথা যেতে দেবেন না নিশ্চয়ই। এর আগে বছরের গোড়ার দিকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টেও স্কোয়াডে ডাক পেয়েছিলেন। সেবার না হলেও এবার অভিষেকটা হয়ে গেলো।