বাবা-বোনের পর চলে গেল ৮ মাসের শিশু মোমতাকিন

বাবা ও বোনের পর না ফেরার দেশে চলে গেল আট মাস বয়সী শিশু মোমতাকিন। দগ্ধ শিশুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে মারা যায়। তার শরীরের ২৩ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।
 
রাজধানীর উত্তরার আলাউদ্দিন মার্কেটের লিফট ছিড়ে দগ্ধ হয়ে এর আগে মারা গিয়েছিল শিশুটির বাবা মাহমুদুল হাসান ও বড় বোন মাইশা।
 
উত্তরার রাজলক্ষ্মী এলাকায় আলাউদ্দীন মার্কেটে ২৫ জুন সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় লিফট ছিড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলেই ৬ জনের মৃত্যু হয়। এ দুর্ঘটনায় মোমতাকিন, তার বোন মাইশা (১০) ও বাবা মাহমুদুল হাসানসহ (৩৬) অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। ঢামেক হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ২৬ জুন মাহমুদুল হাসান মারা যান। তার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এরপর চিকিত্সাধীন অবস্থায় ৮ জুলাই মারা যায় মাইশা। তার শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল। মাইশা মাইলস্টোন স্কুলের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। অবশেষে মোমতাকিনও মারা গেল।
 
মোমতাকিন-মাইশার বাবা মাহমুদুল হাসান আলাউদ্দিন মার্কেটের বেজমেন্টে অবস্থিত ট্রপিক্যাল হোমস লিমিটেডের ডিজিএম ছিলেন। তার অফিসের সহকর্মীদের পরিবার নিয়ে ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। মাহমুদুল ছেলে এবং মেয়েকে নিয়ে আগেই অফিসের ইফতার পার্টি চলে যান। স্ত্রী মেহবুবা হাসান উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর রোডের বাসা থেকে যাচ্ছিলেন। এর মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে। স্বামী-সন্তান হারানো মেহবুবা ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান।